ফ্রান্স প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ পার্কে বসে

ফ্রান্স থেকে  বদরুল বিন আফরুজ : ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ! এ কথা সবাই মানলেও, প্রবাসীদের জীবনে এর বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন ভিন্নরকম। প্রবাসে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটাও কষ্টকর।

ফ্রান্স: ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ! এ কথা সবাই মানলেও, প্রবাসীদের জীবনে এর বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন ভিন্নরকম। প্রবাসে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটাও কষ্টকর।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রত্যাশা আর প্রস্তুতির কমতি থাকে না। একের পর এক ঈদ আসে যায়, প্রবাসীদের ঈদ রয়ে যায় নিঃসঙ্গতায় ভরা।

ফজরের আজানের পর দল বেঁধে ছোটাছুটি করে গোসল সেরে মিষ্টি মুখে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদগাহ মাঠে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য যেন শুধুই স্মৃতি। নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির কেউ ডাক দিয়ে বলে না- সেমাই খেয়ে যাও। শত কর্মব্যস্ততার মাঝে ঈদের ছুটিতে লম্বা ঘুম অধিকাংশ প্রবাসীর ঈদের দিনে মূল কর্মসূচি।

ঈদের নামাজ শেষে দেশে ফোন করার পর বুকের ভেতর কষ্টের তীব্রতা যেন আরও বেড়ে যায়। বুকফাটা যন্ত্রণাকে বুকে নিয়ে বিছানায় যেয়ে চোখের পানিতে বালিশ বিজিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন অনেকে। আর এরপর দুপুর গড়িয়ে পুবের সূর্যটা পশ্চিমে হেলতে শুরু করে। বিছানা ছেড়ে দু’একজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সামান্য আনন্দের প্রত্যাশায় অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলা। এভাবেই কেটে যায় প্রবাসীদের ঈদ নামের নিঃসঙ্গ বেদনার দিনটি। তবুও ঈদ ভাগাভাগি করতে প্রবাসী ভাইয়েরা হাফেজ ইমরানের আমন্ত্রণে একসাথে মিলে আজ ক্যাট সীমা একটি পার্কে আনন্দ উৎসব হিসাবে জড়ো হন এতে উপস্থিত ছিলেন কাওছার আহমদ,বদরুল বিন আফরুজ, ফাহিম বদরুল হাসান,মুহিবুল্লাহ হিলাল।মাহমুদুল্লাহ শিহাব,হাফিজ সাইফ.মাওলানা শিব্বীর, মাওলানা ইমরান,মাওলানা নাইম সদরুল হক, হাফিজ কাওছার,হাফিজ নাসির.মাওলানা জুনাইদ,মাওলানা মাইন উদ্দীন,মাওলানা শাখাওয়াত, মাওলানা মুজিব,কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব শামীম মোল্লাহ সহ বাংগালী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিবৃন্দ এমন আরো অনেক।

কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে তাদের ঈদ ভাবনা নিয়ে কথা হয় টাইম টিউন প্রতিনিধির বদরুল বিন আফরোজের সাথে। মুঠোফোনে সুরমা ভিউ এর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন ঈদ অনুভ‍ূতির কথা। আর তাতে উঠে এসেছে পরিবারকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট আর যন্ত্রণার সুর।

ফ্রান্সের প্রবাসীরা বলেন, ঈদ মানে আনন্দ হলেও, প্রবাসীদের কাছে তা কষ্টের। জীবিকার প্রয়োজনে প্রিয়জনদের ছাড়া একাকী ঈদ উদযাপন করতে হয়। সবসময় তো বটেই, ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে খুব বেশি মিস করি।‘ঈদের নামাজ পড়ে এসে একটা ঘুম দেই, বিকেল হলে বন্ধুদের নিয়ে সাগর পাড়ে অথবা পার্কে গিয়ে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরে আসি- এই হলো প্রবাসীদের ঈদ’ বলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ফ্রান্স প্রবাসী অনেকেই বলেন, দেশে থাকতে প্রতিটি ক‍ুরবানীর ঈদ দেশে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করেছি। এবার ইউরোপ থাকার কারণে যাওয়া হয়নি, তাই বেশ খারাপ লাগছে। এবার দেশে যেতে না পারলেও, ফোনে পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছি।

ফ্রান্সের মজলিস শাখার প্যারিস মহানগর সভাপতি কাওছার আহমদ বলেন, ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে খুব মিস করি। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আনন্দ করে কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করি।

ফ্রান্সের মজলিস শাখার প্যারিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক লাকঅর্ণব মসজিদের ইমাম ও খতিব আমিন উদ্দিন সুলতান বলেন, পৃথিবীতে প্রবাসের কষ্টটা একটু অন্য ধরনের। সব আছে, তবু যেন কিছুই নেই। প্রবাসী না হওয়া পর্যন্ত কেউ তাদের কষ্ট অনুভব করতে পারবে না। প্রবাসীদের কষ্টে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ঈদ এবং বিশেষ উৎসবের দিনগুলি।