বহর গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

সুরমা ভিউ।।  সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন গোলাপগঞ্জ শাখার আয়োজনে স্বাচিপ সদস্য ডা: আশরাফুল আলম ও ডা: মাসুদুর রহমান এর পরিচালনায় এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা গত ১৭ আগস্ট, শনিবার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বহরগ্রাম ফেরীঘাট সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারনে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শিলা, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামীম আহমদ, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, কবি মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম সিলেট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক চৌধুরী দেলোয়ার হোসেন জিলন।
জালালাবাদ ক্যাণ্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল মালিকের সঞ্চালনায় স্থানীয় ওর্য়াড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেম্বার ফয়জুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পবিত্র কোরাআন থেকে তেলাওয়াত করেন জালালাবাদ ক্যাণ্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র মাশরাফুল আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর শোকের মাসে নিজের এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার জন্য ডা: আশরাফুল আলম ও তাঁর সহযোগী ডা: মাসুদুর রহমান কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ডাক্তারী পেশা একটি মানবিক পেশা। এই পেশায় এ রকম মানবিক গুণ সম্পন্ন ডাক্তাররা যত বেশি এগিয়ে আসবেন সমাজ তত বেশি উপকৃত হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গরীব মানুষেরা উপকৃত হবেন। তিনি স্থানীয় বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরী ঘাটে ফেরী সার্ভিস পুর্ণরায় চালু এবং উক্ত ফেরী ঘাটে একটি সেতু নিমার্ণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ^াস দেন।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, সাধারণত মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামমুখি হন না। কিন্তু ডা: আশরাফুল এর ব্যতিক্রম। তিনি তার কর্মব্যাস্ততার ফাঁকে ঈদের ছুটিতে নিজের এলাকায় নিজের অর্থায়নে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প তাঁহার বন্ধু ডাক্তারদের সহযোগিতায় পরিচালনা করে তাঁর শিকড়কে, তাঁর এলাকাকে যে ভাবে স্মরণ করলেন, সম্মান জানালেন তা সাধারণত বিরল। তিনি ডাক্তার আশরাফুল আলম, তার সহযোগী ডা: মাসুদুর রহমান ও তাঁদের গর্বিত পিতা-মাতাকে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক শামীম আহমদ এই তরুণ ডাক্তারদের এ ধরণের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তাহাদের এ ধরণের মানবিক কাজ অব্যাহত রাখার আহবান জানান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শিলা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে উপলক্ষ করে এ ধরণের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য ডা: আশরাফুল আলম ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন অত্র এলাকার উন্নয়নে তাঁর সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে।
লেখক, গবেষক, কবি মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান বলেন, স্কুলে পড়তাম ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল। কিন্তু এই এলাকার রোগীরা আর ডাক্তার আসিবার পূর্বে নয় পরে মারা যাবে। কারণ এখানে ডাক্তার আশরাফুল ও তার বোন আগামী দিনের ডাক্তার শামসুন্নাহার তাহমিদা আছে।
গণদাবী ফোরাম নেতা চৌধুরী দোলোয়ার হোসেন জিলন বলেন, ডাক্তার আশরাফুলের চাচা শিক্ষক আব্দুল মালিক ছাত্রজীবন থেকে এলাকার সমস্যা পত্র পত্রিকায় ও বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করেন। তারই ভাতিজা ডা: আশরাফুল সমাজসেবায় ব্রতী হবে এটাই স্বাভাবিক।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা: আশরাফুল আলম, ডা: মাসুদুর রহমান, বুধবারী বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম আছকির, বুধবারী বাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাকুর রহমান, বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টিপু, জেলা যুবলীগের সদস্য জুনেদ আহমদ খান, প্রমুখ। সেচ্ছাসেবী হিসেবে ছিলেন শাহেদ সাকিব, আনছার উদ্দিন, মাশরাফুল আলম, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। দিনব্যাপী পরিচালিত ক্যাম্পে প্রায় পাঁচশত রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনী ঔষধ প্রদান করা হয়।

উক্ত মেডিকেল ক্যাম্প উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির জনক ও ১৫ আগস্টের সকল শহীদানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।