তৈরি হচ্ছে নীতিমালা স্কুল-কলেজে নিষিদ্ধ হচ্ছে অনেক কিছু!

শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজে ফেসবুক ব্যবহার, আইসিটি ডিভাইস বহন, ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী নীতিমালা ভঙ্গ করে এসব ব্যবহার করলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুল বুলিং প্রতিরোধে, পরিবার, সমাজ এবং স্কুল কী করবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক আঘাত বা মানসিক বিপর্যস্ত করা, অশালীন বা অসৌজন্যমূলক আচরণ অর্থাৎ স্কুল বুলিং থেকে সুরক্ষা দিতে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) জাবেদ আহমেদ বলেন, নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত। শনিবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিয়ে একটি কর্মশালার পর এটি চূড়ান্ত করার পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। আদালতের নির্দেশে নীতিমালায় এটি করা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় স্কুল বুলিং বলতে বোঝানো হয়েছে, স্কুল চলাকালীন সময় বা শুরুর আগে ও পরে, ক্লাস রুমে, স্কুলের ভেতরে, প্রাঙ্গণে বা স্কুলের বাইরে কোনো শিক্ষার্থী দ্বারা অন্য শিক্ষার্থীকে শারীরিক আঘাত করা বা মানসিক বিপর্যস্ত করা, অশালীন বা অপমানজনক নামে ডাকা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, কোনো বিশেষ শব্দ বার বার বলে উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাকে স্কুল বুলিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত স্কুলে মৌখিক, শারীরিক ও সামাজিক- এ তিন ধরনের বুলিং হয়ে থাকে। মৌখিক বুলিং হলো কাউকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলা বা লেখা, যা খারাপ কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে। যেমন- উপহাস, খারাপ সম্বোধন বা ডাকা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করা বা হুমকি দেয়া। শারীরিক বুলিং বলতে কাউকে আঘাত করা, হাত দিয়ে চড়-ধাপ্পড় বা পা দিয়ে লাথি মারা, ধাক্কা মারা, খোঁচা মারা, ঘুষি মারা, কারও জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে দেয়া, মুখ বা হাত দিয়ে অশালীন বা অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি করা।

জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আজ শনিবার ব্যানবেইসে সারাদেশে শতাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে একটি কর্মশালার মাধ্যমে `স্কুল বুলিং নীতিমালা-২০১৯` চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নীতিমালায় বুলিং প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পারিবারিক শিক্ষা, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।