দিরাইয়ে নামেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল: সেবা বঞ্চিত হাওর পাড়ের আড়াই লাখ মানুষ

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, দিরাই::

দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের উন্নত সেবা প্রদানের একমাত্র প্রতিষ্ঠান দিরাই সদরের হাসপাতালটি নামেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল।

 

চিকিৎসক ,নার্সসহ জনবল সংকটের কারণে সেবা পাচ্ছেন না হাওরপাড়ের মানুষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩০ শয্যার হাসপাতালটি আড়াই বছর আগে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একান্ত প্রচেষ্টায় ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আজ পর্যন্ত উন্নত সেবা প্রদান করতে পারছে না হাওর পাড়ের অসহায় মানুষদের।

 

হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ ১৯ টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ৪ জন। ২২ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৮জন, এছাড়া টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্টসহ প্রশাসনের অধিকাংশ পদই শুণ্য।

 

প্রতিদিন হাওর পাড়ের অজপাড়া গাঁ থেকে আসা রোগীরাদের হাসপাতালে এসে অনেকটা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। হাসপাতালের এক্সরে মেশিন টি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো, একটি এ্যাম্বুলেন্স রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে খোলা আকাশের নীচে নষ্ট হচ্ছে আরেকটি নামে মাত্র আছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ১০-১২ জন রোগীদের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভের সাথে বলেন ,নতুন ভবনের উন্নত মানের ফার্নিচার ও কারুকাজ দেখে আমাদের মনে হয়ে ছিল আমরা উন্নত চিকিৎসা পাব, কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত, ৫টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে কয়েকটি প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন, ৪তলা বিশিষ্ঠ মনোরম হাসপাতালে এখনও রোগীর ঠাই হয়নি, পুরানো বিল্ডিং এবং বারান্দায় শুয়ে থাকতে হয় অধিকাংশ রোগীকে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চিকিৎসক,নার্সসহ প্রশাসনের অনেক পদশুণ্য থাকায় আমার হাওরপাড়ের অসহায় মানুষকে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছিনা, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি ।

 

সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন আশুতোষ দাস বলেন লোকবলের স্বল্পতা জন্য নতুন ভবনটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে, আমি আশাবাদী অচিরেই একটা ব্যবস্থা হবে ।