ঝিগলী অবৈধ গাফলা নামের জুয়া খেলা, বন্ধের পরে কিভাবে চলে!

বিশেষ প্রতিনিধি।।   সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাত গাও ইউনিয়নের ঝিগলী গ্রামের শাপলাগঞ্জ বাজারে আজ রাত আয়োজন করা হয় অবৈধ গাফলা প্রতিযোগিতা। অবৈধ গাফলা প্রতিযোগিতার খবর প্রচার হতেই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আয়োজকরা প্রচার করতে থাকেন তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই খেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এদিকে আলেম-উলামা,সাধারণ জনতা এ অবৈধ গাফলা খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।

আলেমরা টাইম টিউনের প্রতিনিধিকে জানান,আমরা গাফলা খেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনশাদ আলী ও কোষাদক্ষ শফিকুল ইসলাম দিলালকে জিজ্ঞেস করি! তারা এ গাফলা খেলার আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন।এবং তাদের অজান্তে তাদের নাম অবৈধ এ গাফলা খেলার পোষ্টারে দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন।প্রশ্ন উঠে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কোষাদক্ষ না জানলে কে করে এ আয়োজন? না এসব তাদের ভাওতাবাজি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,যতই তারা অস্বীকার করুক না কেন?তারা এতে জড়িত আছে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে।

আলেমরা আরো জানান,পরবর্তীতে তারা উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে বিষয়টি অবহিত করেন। চেয়ারম্যান সাহেব এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি সাহেবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান।এবং আলেমদেরকে বলেন,আমি ওসি সাহেবকে বলেছি। আপনারা উনার সাথে দেখা করুন।আলেমরা ওসি সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে লিখিত অভিযোগ পেশ করেন। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি সাহেব জাহিদপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জকে অবৈধ গাফলা নামের জুয়া না করতে পারে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বাজার কমিটি ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খেলার প্রস্ততির খবর পেয়ে আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে জাহিদপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ শাপলাগঞ্জ বাজারে আসেন।এবং বাজারে যেন কোন খেলা না হয় সে নির্দেশ দিয়ে যান।এবং ব্যবসায়ী ছাড়া বাহিরাগত মানুষকে রাত ১০ টার ভিতরে বাজার পরিত্যাগের ও নির্দেশ দেন।

কারা এ গাফলা নামের জুয়ার আসরের পরিচালনা করছেন???
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাত গাও ইউনিয়নের ঝিগলী গ্রাম একটি ধর্মপরায়ণ এলাকা হিসাবে প্রসিদ্ধ। তারপরও কারা বারবার এসব গান, বাজনা,অবৈধ গাফলা খেলার আয়োজনের নেপথ্যে দিচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবী,একটি কুচক্রী মহল এলাকায় সব সময় অশান্তি সৃষ্টি করার পায়তরা করে। এ অবৈধ গাফলা খেলার পোষ্টারের তথ্য অনুযায়ী আয়োজক কমিটি সভাপতি হলেন,বর্তমান মেম্বার জনাব শাহবাজ ,সাধারণ সম্পাদক জনাব মুনশাদ আলী। এলাকাবাসীর অভিযোগ একজন জনপ্রতিনিধি যেখানে এলাকার শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখার চেষ্টা করার কথা,সেখানে তিনিই থাকে অশান্তি সৃষ্টির প্রধানের দায়িত্বে। এ কেমন জনপ্রতিনিধি।একজন জনপ্রতিনিধি যেখানে অবৈধ কাজ হতে মানুষকে বিরত রাখার কথা, সেখানে তিনিই থাকেন প্রধানের দায়িত্বে।কাকে আমরা কি বলব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সুরমা ভিউকে বলেন এই ঝিগলী গ্রামে রয়েছে তিনটি কওমি মাদ্রাসা এবং একটি কলেজ একটি হাই স্কুল দুটি প্রাইমারি স্কুল আমাদের এলাকার মানুষ অনেক শান্তশিষ্ট। এই সুন্দর পরিবেশ টাকে নষ্ট করার জন্য কিছুদিন পরপর গোটা কয়েক জন মানুষের কারণে এই গ্রামে অশান্তি বিরাজ করে । তারা এসব কেন করছে বা করে আমরা বুঝে উঠতে পারিনা।

তার এসব কাজের ছায়াসঙ্গী হিসাবে থাকে তার ছেলে ও মেম্বার সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই ঝিগলী লামাচলিতা গ্রামের আব্দুল আলী।আরো অনেককে তারা সামান্য টাকার লোভে ফেলে এ অবৈধ কাজে জড়িত করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের দাবী বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত মুনশাদ আলী মুলত শাহবাজ মেম্বারের গুন্ডাবাহিনী হিসাবেই এসব অবৈধ কাজ করছেন। তারা আরও বলেন এই গাফলা খেলার বিষয় নিয়ে এলাকার ওলামায়েকেরাম থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ এখানে এসে বন্ধ করে দেওয়ার পরেও তারা জোরপূর্বক ভাবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী আরও বলেন জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ আসে বন্ধ করে পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবার চালু করে এখানে বোঝা যাচ্ছে ফাঁড়ির পুলিশ এস আই বেলাল এলাকার মানুষের সাথে ভাঁওতাবাজি করছে! পুলিশ চাইলে কিনা করতে পারে।

দুইদিন থেকে শাপলাগঞ্জ বাজারের আশপাশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোস্তফা কামালের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন যে গ্রামের ওলামায়েকেরাম আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর তাৎক্ষণিক আমাদের জাহিদপুর ফাঁড়ি ইনচার্জকে সুবোধ সরকারকে বলে দেওয়া হয় গাফলা খেলা বন্ধ করার জন্য তিনি আরো বলেন আমরা বন্ধের পরে নাকি তারা আবারও চালু করেছে আমাদের কাছে ফোন আসলে আবারো আমাদের ফোর্স পাঠিয়ে দিয়েছি ঘটনাস্থলে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।