কীনব্রিজ বন্ধ করে দেয়া জনদুর্ভোগ চরমে ব্রিজের উপর চলছে ব্যবসা, সংস্কারের লক্ষণ নেই

সুরমা ভিউ।।  সুরমা নদীর উপর নির্মিত কীনব্রিজ সিলেট নগরীর প্রবেশ দ্বারা হিসেবে খ্যাত। ঐতিহ্যবাহী এই কীনব্রিজ দিয়ে দিনে ও রাতে হাজার হাজার মানুষ হাল্কা যানবাহন ও পায়ে প্রতিনিয়ত পারাপর হন। গত ১ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ব্রিজ দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শাহজালাল ব্রিজ ও কাজিরবাজার ব্রিজ ব্যবহার করে জনগণ সিলেট নগরীতে প্রবেশ করেন ও বের হয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এ দু’টি ব্রিজ দিয়ে পারপার হতে বেশি সময় লাগে এবং দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

দক্ষিণ সুরমায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত। বাস টার্মিনাল ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে কীনবিজটির অবস্থান। এই ব্রিজ ব্যবহার করে খুব সময়ের মধ্যেই বাস স্ট্যান্ডে ও স্টেশনে পৌছা যায়। এটা বন্ধ করে দেয়ায় অনেক যাত্রী ট্রেন ফেল করেছে। এতে যাত্রী সাধারণ নির্দষ্ট গন্তব্যে যথাসময়ে পৌছতে পারছেন না পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এছাড়া কাজিবাজার ও শাহজালাল ব্রিজ দিয়ে রাতে ও ভোরবেলা পারাপার হতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যাত্রী সাধারণ।
দীর্ঘ ৯ দিন যাবৎ ব্রিজটির উভয় মুখে লেহার এঙ্গেল দিয়ে মোটর সাইকেল, রিক্সা, ভ্যানগাড়ী, অটোরিক্সা সহ সকল প্রকার হাল্কা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলে এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কি কারণে বা কেন বন্ধ করা হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না সাধারণ জনগণ। শুধুমাত্র এঙ্গেলের ফাঁক দিয়ে জনসাধারণ ব্রিজটি পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন।
গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিন কীনব্রিজ ঘুরে দেখা যায়, ব্রিজের উপর টেবিল ও বিশাল ছাতা টাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানী মোবাইল সিম বিক্রি করছে। এছাড়াও পানের দোকান, কাচাবাজার, গাছা ও লুঙ্গি বিক্র করছেন হকারগণ। ব্রিজটি বন্ধ হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, মহিলা ও শিশুদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজটি খোলে দেয়ার জন্য দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নগরীর দক্ষিণ সুরমার ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র-১ তৌফিক বকস লিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেন ব্রিজটি মেয়র বন্ধ করে দিয়েছেন তা দক্ষিণ সুরমার ৩ ওয়ার্ডে ৪ জন কাউন্সিলর কিছু জানেনা। গত ২দিন ধরে আমরা ব্রিজটি দিয়ে রিক্সা ও মোটর সাইকেল চলাচলের জন্য খোলে দেয়ার জন্য মেয়রের কাছে দাবী জানিয়েছি। বিজ্ঞপ্তি