প্রদীপ রায়ের বক্তব্যের জবাব দিলেন হাফিজুর-মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

গত ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া।

 

সুনামগঞ্জস্থ হাছন রাজা মিলনায়তন হলে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রদীপ রায়ের বক্তব্যকালে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করায় লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

 

লিখিত বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন প্রদীপ রায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করতে গিয়ে আমাদের প্রয়াত জাতীয় নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাতে গড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকেই অস্বীকার করেছেন।

 

যে প্রদীপ রায় প্রয়াত নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন তিনি আজ খাঁটি আওয়ামীলীগ সেঁজেছেন। অথচ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেও জানেন প্রদীপ রায়ের বাবা মৃত প্রভাত চন্দ রায় পিডিপির লােক ছিলেন।

 

প্রতিনিধি সভায় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

 

বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিরােধিতা করে তিনিই বিরােধিতার কালচার দিরাইয়ে সৃষ্টি করেছেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে ছলচাতুরী করে প্রদীপ রায় নৌকা নিয়ে আসার পর দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ, মাননীয় এমপি ড. জয়া

সেনগুপ্তার নির্দেশনায় মাঠে নেমে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করেছে। উদুর পিডি বুধুরঘাড়ে চাপিয়ে তিনি এখন শাক দিয়ে মাছ ডাকার চেষ্টা করছেন। যে জীবনে কোন দিন কর্মী সমর্থকের ফোন ধরেননি, মাঠে কর্মীদের সাথে না থেকে সিলেট থেকে সম্পাদকীয় করেন তাকে ফেল করানাের জন্য তিনি নিজেই যথেষ্ট।

 

দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করতো তাহলে তিনি নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন হয়েও এত ভােট পেলেন কি করে। উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে অভিযােগ উত্থাপন করেছেন তা শুধু মিথ্যা নয় দাম্ভিকতাপূর্ণ বটে।

 

বিগত উপজেলা নির্বাচনে প্রদীপ রায় নির্বাচনী পর্যায়ের শেষ দিকে নির্বাচনী অফিস তার বাসায় নিয়ে অবৈধ আয়ের বৈধ টাকার খেলা খেলে নির্বাচনকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেননি, আওয়ামী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। সে সময় লোকমুখে প্রবাদ ছিল একজন মহরী থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে এত টাকার মালিক হলেন কীভাবে।

 

তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের শেষ দিকে আরও বলেছেন দিরাই আওয়ামী লীগে তিনি সহ ৬-৭ জন আছেন আর কোন আওয়ামী লীগ নেই। তাহলে বাকী সব কী তার ভাষায় কাউয়া? শ্রদ্ধেয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাতে গড়া ৭১ সদস্য বিশিষ্ট দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সবাই যদি কাউয়া হয় তাহলে বর্তমান এমপি মহােদয় কী?

 

প্রদীপ রায় সিলেট থেকে অতিথি পাখির মতাে আর্থিক প্রয়ােজনে দিরাইয়ে এসে সফল সম্পাদক হয়ে গেছেন? একবার কী ভেবেছেন দিরাইয়ের ভােটার, কর্মী-সমর্থকদের অভাব অভিযােগে কে পাশে থাকে?, তার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে তিনি “কাউয়ার বাসায় কোকিলের চাউ”।

 

আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা স্বর্গীয় বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের গড়া আওয়ামীলীগ সম্পর্কে প্রদীপ রায়ের এ মিথ্যা-ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও চাটুকারিতার বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।