মৌলভীবাজারে অম্লীল ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও অর্থ আদায়

মোঃ তাজুদুর রহমান,মৌলভীবাজারঃ
শ্রীমঙ্গলে ফিল্মী স্টাইলে অম্লীল ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে ৬ মাস ধরে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছে গৃহবধূর স্কুলমেট এক লম্পট প্রতারক।
শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে দাবীকৃত টাকা না পেয়ে লম্পট প্রতারক অশ্লীল ছবিগুলো পাঠিয়ে দেয় গৃহবধূর প্রবাসী স্বামীর মোবাইল ফোনে। ফলে, স্বামীর পরিত্যক্তা ও শ্বাশুরী কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পিত্রালয়ে মানবেতর দিনাতিপাতে বাধ্য হচ্ছে ওই গৃহবধূ।
এ ঘটনায় গৃহবধূর বড় ভাই থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ওই লম্পট প্রতারককে গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
 অম্লীল ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে গৃহবধূ ধর্ষণ, অর্থ আদায় ও স্বামীর মোবাইল ফোনে অম্লীল ছবি পাঠিয়ে গৃহবধূকে স্বামীর পরিত্যক্তা ও শ্বাশুরী বিতাড়িত করার এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়- শ্রীমঙ্গল শহরের সেন্ট্রাল রোডস্থ একটি মোবাইল ফোন ওয়ার্কশপের মালিক ও উপজেলার উত্তর সাইটুলা গ্রামের রফিক মিয়ার পুত্র মিজানুর রহমান তার স্কুলমেট পার্শ্ববর্তী জানাউড়া গ্রামের দুধু মিয়ার বিবাহিত কন্যা শম্পা আক্তারকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মাধ্যমে কৌশলে শ্রীমঙ্গল শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নেয় এবং তার মোবাইল ফোনে রক্ষিত শম্পা আক্তারের কিছু অশ্লীল ছবি দেখিয়ে বলে, আমার কথামতো না চললে বা আমার কথা না শুনলে এসব ছবি তোমার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিবো।
এতে শম্পা প্রচন্ড ভয় পেয়ে মিজানের কথায় রাজী হয় এবং স্বেচ্ছায় মিজানের কাছে ধর্ষিত হয়। সেই থেকে শম্পা প্রায় নিয়মিত মিজানের কাছে স্বেচ্ছায় ধর্ষিত হতে থাকে।
 সেইসাথে প্রায়ই মিজানের আর্থিক দাবী পূরণ করতে থাকে। মিজানের আর্থিক দাবী পূরণ করার জন্য শম্পা তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর মিয়ার ১ লাখ টাকা চুরি করতে পর্যন্ত বাধ্য হয়। এভাবে মিজান দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে শম্পাকে ধর্ষণ ও অর্থ আদায় করে।
একপর্যায়ে মিজান শম্পার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করলে শম্পা “এতোটাকা কোথায় পাবো” বলে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিজান তার মোবাইল ফোনে রক্ষিত অশ্লীল ছবিগুলো প্রবাসে থাকা শম্পার স্বামীর মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয় এবং ৫ লাখ টাকা দাবী করে জানায় “টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে”।
বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ালে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানার উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল থানায় অনুষ্ঠিত সালিশে মিজান সবকিছু স্বীকারপূর্বক ক্ষমা চায় এবং আর কখনও এসব করবেনা বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করে।
কিন্তু, এর দুইমাস পর সে আবারো অশ্লীল ছবিগুলো শম্পার স্বামীর মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবী করে। এদিকে শম্পার স্বামী শম্পাকে পরিত্যাগ করে এবং শ্বাশুরী তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে শম্পার বড় ভাই জাহাঙ্গীর মিয়ার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ গত ১ অক্টোবর মিজানকে গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
ভূক্তভোগী শম্পা অঝোর ধারায় কেঁদে কেঁদে এ প্রতিনিধির কাছে লম্পট প্রতারক মিজানের কুকীর্তির উপরোক্ত বর্ণনা দিয়ে বলে- আমার সম্ভ্রম, অর্থ, সংসার সবকিছু ধ্বংশ করে মিজান আমাকে জীবিত লাশ বানিয়ে দিয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ।