পিতা-মাতাকে হারিয়ে অসহায় তিন শিশু

ছাতক প্রতিনিধি::  সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী দ্রুতগতির লেগুনা খালের পানিতে পড়ে আহত হাসিনা বেগম (৩৬) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় সিলেটস্থ ইবনেসিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুর্ঘটনার রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় নিহত হাসিনা বেগমের স্বামী মখজ্জুল আলী (৪২) মারা যান। এ ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত দু’জন তারা স্বামী-স্ত্রী। তাদের বাড়ি ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বাউভোগলী গ্রামে। সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচ জন আহতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দু’জন মারা যাওয়ায় পরিবারের ৩ শিশু সন্তান অসহায় ও অভিভাবক শুন্য হয়ে পড়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ৯ বছরের শিশু কন্যা শান্তিয়া বেগমকে মায়ের লাশের সাথে বাড়িতে আনা হয়েছে। এদিকে আহত ফেরদৌসী বেগম (৭) ও আমিনুর রহমান (৪) স্বাভাবিক সুস্থ্য হয়ে চারদিন আগে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরছেন। পিতা-মাতা হারিয়ে তিন সন্তান প্রায় পাগল পারা। তাদের ক্রন্দনে যেন এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। শান্তনা দেয়ার মতো কারো ভাষা নেই। অদক্ষ লেগুনা চালকের কারণে অসহায় এ পরিবারটি আজ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকালে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ছিকনাকান্দি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে রোগি দেখতে যান বাউভোগলী গ্রামের মৃত মছলন্দর আলীর পুত্র দিনমজুর মখজ্জুল আলী। সেখান থেকে ওইদিন বিকেলে স্বপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন লেগুনা যোগে। লেগুনা নং-সিলেট-ছ-১১-২০৭৩। অদক্ষ চালক কর্তৃক দ্রæতগতির লেগুনাটি সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের আলাপুর গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছামাত্র গাড়িটি উল্টে পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে লেগুনায় থাকা সকল আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী ও স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এসব আহতদের মধ্যে মারা যাওয়া হাসিনা বেগম ও মখজ্জুল আলী এবং তাদের শিশু সন্তানসহ  একই পরিবারের ৫ সদস্য গুরুতর আহত হলে তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওইদিন রাতেই মারা যান স্বামী মখজ্জুল আলী। দূর্ঘটনার ৮দিন পর বুধবার বেলা ৩টায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় সিলেট ইবনেসিনা হাসপাতালে মুত্যু হয় (স্ত্রী) হাসিনা বেগমের। এদিকে দূর্ঘটনার পর-পর ঘাতক চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দূর্ঘটনা কবলিত লেগুনাটি উদ্ধার করে বদিরগাঁওস্থ ফাঁড়িয়ে নিয়ে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরেতাজ মিয়া বলেন, দূর্ঘটনায় আহত একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওইদিন রাতেই মারা যান মখজ্জুল আলী। তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসিনা ও তার সন্তানদের ভর্তি করা হয় জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে হাসিনার অবস্থা অবনতি ঘটলে বুধবার সকালে ইবনেসিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বেলা ৩টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাযা নামায শেষে স্বামীর কবরের পাশে স্ত্রীকে দাফন করা হবে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রনু মিয়া বলেন, এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয় হাবিজুর রহমান বাদি হয়ে মঙ্গলবার ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।