নিজের অজান্তেই অন্যের কাছে অপ্রিয় হচ্ছেন না তো?

সবার মন জয় করে চলা সম্ভব নয়। তবে নিজের অজান্তেই হয়ত কিছু আচরণের কারণে অযথাই অপছন্দের পাত্রে পরিণত হচ্ছেন। দিন শেষে কেনো মানুষ আপনাকে দেখতে পারছে না তা নিয়ে ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না। ২০০৮ সালে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি জরিপ চালায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এই জরিপে শিক্ষার্থীদের কিছু কাল্পনিক ফেইসবুক প্রোফাইল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় ওই প্রোফাইলে মানুষগুলোকে তাদের কেমন লেগেছে।

ফলাফলে দেখা যায়, যার প্রায় ৩০০ বন্ধু আছে ফেইসবুকে তাদেরকেই মানুষ বেশি পছন্দ করে। বন্ধুর সংখ্যা যদি ১০০ বা তার কাছাকাছি হয় তবেও তাকে অংশগ্রহণকারীরা পছন্দ করছেন না। আবার যার ৩০০ এর বেশি বন্ধু তাদেরকেও ঠিক ভালো ঠেকছে না। বেশি বন্ধু হলে অপছন্দ করার কারণ সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, ‘অনেক বেশি বন্ধু থাকলে অপরের ধারণা হয় ওই ব্যক্তির কাছে ফেইসবুক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর তার আসলে জনপ্রিয়তা নেই, হতাশা মেটাতে ফেইসবুকে বন্ধু বাড়িয়েছে।’

পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আলোচনা সম্পর্ককে জোরদার করে। পরিণত বয়সে এসে নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অন্যতম উপায় এটি। তবে মাত্র কদিনের পরিচয়ে কাউকে নিজের অত্যন্ত ব্যক্তিগত কথা বলে ফেলার কারণে অপর ব্যক্তি আপনাকে ভরসার অযোগ্য মনে করার পাশাপাশি অপছন্দ করতে পারে। তাই গোপন কথা বলার আগে সময়জ্ঞান থাকতে হবে।

স্প্রিচারের ২০১৩ সালের ওই গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা যায়, নিজের সম্পর্কে জানানো সম্পর্ক গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা দুই পক্ষ থেকেই হতে হবে। নিজের সম্পর্কে একান্ত কোনো তথ্য ভাগাভাগি করে না নিলে মানুষ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগ্রহ হারায়। এই গবেষণায় অপরিচিত ব্যক্তিদের গল্প করতে দেওয়া হয়। একদল কথার পিঠে কথা বলে গল্প করেছে আর অপর দলে একজন ব্যক্তিই ১২ মিনিট নিজের কথা বলেছে। পরে অপরজন নিজের সম্পর্কে বলেছে।ফলাফলে দেখা গেছে যে দল কথার পিঠে কথা বলে গল্প করেছেন তাদের পারস্পারিক সম্পর্ক হয়েছে জোরালো।

মানুষের পছন্দের পাত্র হতে নিজের সত্য অনুভূতিটাই তাদের সামনে তুলে ধরা উচিত। ২০১৬ সালে এবিষয়ে গবেষণা চালান ইউনিভার্সিটি অফ ওরেগনয়ের গবেষকরা। এতে অংশগ্রহণকারীদের দুটি সিনেমার অংশ দেখানো হয়, একদলকে মন খুলে অনুভূতি প্রকাশ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। আরেকদলকে নিজেদের অনুভূতি চেপে রাখতে বলা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা যখন এই দৃশ্যগুলো দেখছিলেন, গবেষকরা তখন পর্যবেক্ষণ করছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। ফলাফলে দেখা যায়, যারা অনুভূতি লুকিয়ে রেখেছিলেন তাদেরকে অন্যান্যরা পছন্দ করছেন না। গবেষকরা বলেন, ‘ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষ স্বার্থপরতা দেখায়। তারা দেখে কাদের কাছে তাদের সখ্যতার মূল্য আছে। আর এই মানুষটি যখন দেখবে কেউ তার অনুভূতি লুকিয়ে রাখে তখন তার প্রতি সে আগ্রহ হারাবে।’

একজনের সঙ্গে যত ভালো ব্যবহার করবেন তার সঙ্গে সম্পর্ক ততই ভালো হওয়া উচিত, তাই না? তবে সবসময় তেমনটা ঘটে না। ২০১০ সালে ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ডেজার্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণা চালায়। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে পাঁচজনের একটি দলে অন্তর্ভুক্ত করে কম্পিউটার গেইমস খেলতে বলা হয়। যার মধ্যে চারজনই গবেষকদের নিজস্ব প্রভাবক। প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের অর্জন অপরকে দান করে দিতে পারবে পুরোপুরি কিংবা আংশিক। নিজের অর্জনের পরিমাণ বাড়ানোর লোভও তৈরি করে দেন গবেষকরা। যার অর্জন বেশি হবে সে লটারির মাধ্যমে পুরষ্কার পাবে। চারজন নকল অংশগ্রহণকারী তাদের অর্জন পঞ্চম জনকে দিয়ে দেয় অনেকটাই, আন্তরিকতার প্রকাশ হিসেবে। তবে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মধ্যে অনেকেই তা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।