ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়

নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতকে নাগালেই রাখে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান। জবাবে সাত উইকেট ও তিন বল হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ।

মাঝারি রান তাড়া করতে গিয়ে প্রথম ওভারেই ফিরে যান বাংলাদেশের ওপেনার লিটন দাস (৭)। দীপক চাহারের বলে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

লিটন ফেরার পর সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস মেরামতের কাজ চালিয়ে যান অভিষিক্ত মোহাম্মদ নাঈম। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৬ রানে যুবেন্দ্র চাহালের শিকার হয়ে ফিরে যান তিনিও। ২৮ বলের ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা।

নাঈম ফেরার পর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে রান বাড়াতে থাকেন সৌম্য। দুজনে গড়েন ৬০ রানের জুটি। ৩৫ বলে ৩৯ রান খলিল আহমেদের বলে করে ফেরেন সৌম্য।

এরপর ফিনিশিংয়ের গুরুদায়িত্বটি পালন করেন মুশফিক। খলিল আহমেদের করা ১৯তম ওভারে তাঁকে টানা চারটি চান হাঁকিয়ে জয়ের বন্দরের দিকে এগিয়ে যান বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৬০ রানে। ৪৩ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছয়। সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ করেন ৭ বলে ১৫ রান।

এর আগে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। তাঁরা দলীয় ১০ রানের ওপেনার রোহিত শর্মার উইকেট হারায়।

বাংলাদেশের পেসার শফিউল ইসলামের করা ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন রোহিত। ওভারের শেষ বলে রোহিতকে এলবিডব্লিউ বানিয়ে আউট করেন এই পেসার।

এরপর ভারতের ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন শিখর ধাওয়ান এবং লোকেশ রাহুল। শফিউল, আল আমিন এবং মুস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে হাতখুলে খেলতে পারেনি দলটি।

ধাওয়ান এবং রাহুল যোগ করেন ২৬ রান। পাওয়ার প্লের পরেই লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে বোলিংয়ে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সফলও হয়েছেন।

নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ১৫ রান করা রাহুলকে অধিনায়কের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন তিনি। এরপর একাদশ তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসা বিপ্লবের উপর চড়াও হয়ে খেলার চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আইয়ার।

ওভারের দ্বিতীয় বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে নাঈম শেখের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা শিখর ধাওয়ান ৪১ রান করে রান আউট হয়ে ফিরেছেন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের করা ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলটি লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে দুইরানের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন তিনি। তবে দুই রান পূরণের আগেই মাহমুদউল্লাহর থ্রোর পর ব্যাটিং স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন মুশফিক।

আর তাতেই রান আউট হয়ে যান ধাওয়ান। ভারতের হয়ে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান শিভব দুবেকে নিজের বলেই দুর্দান্ত ফিরতি ক্যাচে ফিরিয়েছেন আফিফ হোসেন। অভিষেক ম্যাচে দাবের ব্যাট থেকে এসেছে ৪ বলে ১ রান।

দারুণ খেলতে থাকা পান্তকে নাঈম শেখের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন শফিউল ইসলাম। তিনটি চারে ২৭ রান করে আউট হয়েছেন ভারতের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

এরপর ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং ওয়াশিংটন সুন্দর মিলে ভারিতকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। ক্রুনাল ১৫ এবং সুন্দর ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন শেষ পর্যন্ত।

 

মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ফিনিশিংয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে সাত উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। একইসাথে জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালবিহীন নতুন বাংলাদেশ জিতল ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েই। 

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ভারতঃ ১৪৮/৬ (২০ ওভার)
(ধাওয়ান ৪১, আইয়ার ২২, পান্ত ২৭, শফিউল ২/৩৬, বিপ্লব ২/২২)

বাংলাদেশঃ ১৫৪/৩ (১৯.৩ ওভার)
(মুশফিক ৬০*, সৌম্য ৩৯; চাহার ১/২৪)