পদবিহীন নেতার যন্ত্রনায় সুখ হারাচ্ছে শান্তির জনপদে!

আবু জাবের ||স্টাফ রিপোর্টারঃ  

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। শিক্ষা ও সমাজসেবায় গ্রামটির ঐতিহ্য বহু পুরাতন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ গ্রামের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে এর মধ্যেই চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি, মাদক সেবন ও সরবরাহ করা ও দফায় দফায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদদের অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবুল হাসানের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। আর এদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে সৈয়দ মিজান আহমেদ, রুম্মান আহমেদ, সৈয়দ সাইদুল ইসলাম, গোলজার আহমেদ, রাজু মিয়া সহ এলাকার উঠতী বয়সের প্রায় অর্ধশত কিশোর। যাদের অনেকই এই বাহিনীতে এসে জড়িয়েছেন বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনে। ক্যাডার বাহিনীকে দিয়ে তার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

সম্প্রতি এই বাহনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সৈয়দ রাজলু মিয়া (৩০) নামের এক যুবক। তিনি সৈয়দপুর আড়িকোনা গ্রামের মৃত সৈয়দ শফিক মিয়ার ছেলে।গত ৩ নভেম্বর সৈয়দ ফাহিমের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। হামলাকারী সৈয়দ ফাহিম আবুল হাসান বাহিনীর সদস্য বলে জানা যায়। আহত রাজলুর বড় ভাই বলেন আমাদের গ্রামে মাদকদ্রব্য ইয়াবার আসক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ভাইয়ের সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকা চিনিয়ে নেওয়ার জন্য ফাহিমের নেতৃত্বে হামলা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শান্তির জনপদ হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর গ্রাম। নানা কারণে এই গ্রামের ঐতিয্য রয়েছে জেলাব্যাপী। তবে সম্প্রতি এই সৈয়দপুর গ্রামকে অঘোষিত রাজ্যে করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আবুল হাসান। তিনি তার নিজের বলয়ের বাইরের কারো কথা শুনেন না, বলতেও দেন না। এলাকার সবাই তার চোখে তার রাজ্যের বাসিন্দা। কেউ তার বিপক্ষে কিছু বললে টুঁটি চেপে ধরেন।

এরকমই একটি ঘটনা গঠেছিলো ২০১৩ সালে রমজান মাসে। এই বাহীনির রুম্মান, মিজান, রায়হানের নেতৃত্বে হামলায় শিকার হন সৈয়দপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ রফু মিয়া। এই হামলায় তিনি পঙ্গত্বও বরণ করেন। তিনি এখনও নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রফু।

হামলায় শিকার রফুর অভিযোগ করে বলেন, আমাকে মেরে ফেরতেই মূলত এই হামলা করিয়ে ছিলো মোহাম্মদ আবুল হাসান (হাসান বাহীনি)। আল্লাহ সহায় ছিলেন অস্ত্র দিয়ে গুলি করার পরও আমি বেচে আছি।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য তৈয়ব মিয়া কামালীর সঙ্গে পরাজিত হন।

নির্বাচনের ভোট গণনাকালে তার বাহিনী ইউনিয়নের বুধরাইল ভোট কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পিটিয়ে ব্যালেট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।

এ মামলায় হাসানের আত্মীয়-স্বজনসহ একাধিক ব্যাক্তি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ান জারি হয়েছে বলেও জানা যায়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা প্রবাসে পলাতক।

নাম প্রকাশ করার নাশর্তে এলাকার অধিক বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানাযায় সদ্য পার্শ্ববর্তী গ্রাম ইসহাকপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, এই সংঘর্ষের অধিকাংশ অস্ত্র সৈয়দপুর গ্রাম থেকে নেয়া হয়েছিল।

জানাযায় সৈয়দপুর বাজারে তার একক আওয়ামিলীগ অফিস ছিলো। এই বাজারে আওয়ামিলীগের নতুন অফিস ২ নভেম্বর উদ্বোধন হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিনা দাওয়াতে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ঢুকে পরেন।অনুষ্ঠানে বর্তমান চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালি সহ তার বিপরীত মেরুর আওয়ামিলীগ নেতাকর্মী ভয়ে আসতে পারেন নি বলে জানা যায়।

অভিযোগ আছে সৈয়দপুর দরগা জামে মসজিদে জের ধরে ২০১২ ইং সালে হাসান বাহীনি লক্ষ্যকরে সৈয়দপুর আলিয়া মাদ্রাসার প্রেন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ রেজুয়ান আহমদ ও মাওলানা সৈয়দ আমিরুল ইসলামকে না পেয়ে সৈয়দপুর হাফিজিয়া টাইটেল মাদ্রাসার শিক্ষক বড় হুজুর নামে পরিচিত তার ছেলে মাওলানা সৈয়দ রশিদ আহমদ কে সৈয়দপুর আলিয়া মাদ্রাসার সামনে মারপিট করে সৈয়দ মিজান, সৈয়দ রুম্মান ,সাইদুল , শুবের ও জঙ্গিনুর ,এবং সহযোগী জুম্মান।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন আওয়ামিলীগের কোন পদবীতে না থেকেও এত প্রভাব!

বিস্তর অভিযোগের ব্যাপারে সত্যতা জানতে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন রাজনীতি করলে প্রতিপক্ষ থাকে, আমার প্রতিপক্ষ আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য এধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কর্মী সমর্থক থাকা স্বাভাবিক, আমার ও কর্মী বাহিনী আছে,আমার কর্মীদেরকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে আমি জনপ্রতিনিধি হতে পারতাম না।আমি প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।