মৌলভীবাজারে দুলাভাইয়ের ধর্ষণে কিশোরী শ্যালিকা অন্ত:সত্ত্বা

নিজস্ব প্রতিবেদক,মৌলভীবাজার।।  মৌলভীবাজারে আপন খালাতো দুলাভাই (খালাতো বড়বোনের স্বামী) এর ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে কিশোরী শ্যালিকা। আলট্রসনোগ্রাফি রিপোর্ট অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী শ্যালিকার সন্তান প্রসব হতে যাচ্ছে এ সপ্তাহেই।
অপরদিকে, ধর্ষক দুলাভাই ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার এবং তার বড়ভাই ও শ্বশুর এ ঘটনার সম্মানজনক সমাধান না করায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন অন্তঃসত্ত্বা শ্যালিকার পিতা।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ৬নং টেংরা ইউনিয়নস্থিত কান্দিরকুল গ্রামের মৃতঃ ইউসুফ মিয়ার ২য় পুত্র ১ সন্তানের জনক আবুল কাসেম (৩৪) বৈবাহিক সূত্রে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নস্থিত নিতেশ্বর গ্রামের ময়না মিয়ার (ছদ্মনাম) স্ত্রীর বড়বোনের মেয়ের স্বামী হবার সুবাদে খালার বাড়ী হিসাবে প্রায়ই ময়না মিয়ার বাড়ীতে যাওয়া আসা করতো।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী সন্ধার পর ময়না মিয়া ও তার স্ত্রী স্থানীয় ‘শাহ গাজীর মাজার’ এর মেলায় ঘুরতে যাবার পর রাত ৯টার দিকে আবুল কাসেম তাদের বাড়ীতে আসে। এসময় ঘরে একা পেয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কিশোরী কন্যা সাজিয়া বেগম (১৭) ছদ্মনাম) এর সাথে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং খুব শীঘ্রই কাবিনমূলে বিয়ে করে নিয়ে যাবার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে।
ময়না মিয়া ও তার স্ত্রী মেলা শেষে বাড়ীতে ফিরলে আবুল কাসেম ‘মেলায় বেড়াতে আসার সুবাদে বাড়ীতে এসেছে’ বলে জানায়। আবুল কাসেম জামাতা হবার কারণে ময়না মিয়া ও তার স্ত্রী কোনোপ্রকার সন্দিহান হননি।
সেই থেকে গোপনে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকলে সাজিয়া বেগম ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বিয়ের কথা বললে আবুল কাসেম তাতে অপরগতা প্রকাশ করে এবং গোপনে ওমান প্রবাসে চলে যায়। নিরুপায় হয়ে সাজিয়া বেগম বিষয়টি তার পিতামাতাকে জানালে তারা আবুল কাসেমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
একপর্যায়ে আবুল কাসেম বাড়ীতে ফিরে আসার খবর পেয়ে সাজিয়া বেগমের পিতা ময়না মিয়া কয়েকজন লোক নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আবুল কাসেমের বাড়ীতে গিয়ে ঘটনার প্রতিকার চাইলে, সে ও তার বড়ভাই এবং শ্বশুর তাদেরকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।
ফলে, নিরুপায় হয়ে ময়না মিয়া বাদী হয়ে জামাতা আবুল কাসেম, তার বড়ভাই নাজাই মিয়া ও শ্বশুর শাহজাহান মিয়াকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা (নং- ০১, জিআর- ২৯৪, তাং- ০১/১০/২০১৯ইং) দায়ের করেন।
এ খবর পেয়ে ধর্ষকের বড়ভাই ও শ্বশুর আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেও ধর্ষক আবুল কাসেম পালিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে- গত ১১ নভেম্বর মামলার ধার্য্য তারিখ থাকলেও ৩ আসামীর কেউই আদালতে হাজির হয়নি।
সাজিয়া বেগমের অসহায় পিতা তার কিশোরী কন্যার গর্ভজাত অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় ও কিশোরী কন্যার সর্বনাশকারী আবুল কাসেমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।