সুনামগঞ্জে দুই ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।।  সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা বাজার থেকে দুই ভূয়া ডিবি পুলিশকে আটক করেছে ধর্মপাশা থানার পুলিশ। ওই বাজারের মা মিস্টন্ন ভান্ডার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন- নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার দেওগাঁও গোবিন্দপুর গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মোজ্জাক্কির হোসেন (২২) ও ইটাখলা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সানোয়ার হোসেন (৩৫)।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় ওই দোকানের মালিক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের গাছতলা বাজারে মো. এরশাদ মিয়ার মালিকানাধীন মা মিস্টান্ন ভান্ডারে মোজ্জাক্কির হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিষ্টি কিনতে এসে ম্যানেজারকে মিষ্টির দাম জিজ্ঞেস করেন এবং মিষ্টি দিতে বলেন। পলিথিনের মাধ্যমে মিষ্টি দেওয়ার সময় মোজ্জাক্কির হোসেনের সাথে থাকা সানোয়ার হোসেন দোকানের ভিতর এসে পলিথিন দেখে উত্তেজ্জিত হয়ে ম্যানেজারকে ধমক দিয়ে পলিথিনে মিষ্টি দেওয়া হচ্ছে কেন জানতে চান।

এ সময় ম্যানেজার তাদের পরিচয় জানতে চায়। মোজ্জাক্কির হোসেন নিজেকে ডিবি পুলিশের অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। সানোয়ার হোসেন তখন দোকানের ক্যাশের ভিতরে তল্লাশি করেন এবং দোকানের লাইসেন্স দেখতে বলেন।

ইতোমধ্যে দোকানের মালিক মো. এরশাদ আকন্দ এশার নামাজ শেষ করে দোকানের সামনে এলে ম্যানেজার তাকে জানান দোকানে ডিবি পুলিশের লোকজন এসেছে। এরশাদ আকন্দ দোকানের ভিতর গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চান। তারা এরশাদকে পুলিশের একটি কার্ড দেখিয়ে বলেন তারা ডিবি পুলিশের লোক। তারা জানান, তাদের আরো ১০/১২ জন সদস্য এই বাজারে অভিযানে আছেন।

দোকানের মালিক তাদের বসতে বললে তারা তার প্রতি আরো রাগান্বিত হয়ে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। তখন সানোয়ার হোসেন দোকানের মালিক এরশাদ আকন্দকে একটু দূরে নিয়ে বলেন- স্যারকে ম্যানেজ করতে হবে। এতে দোকান মালিকের সন্দেহ হয়। তখন বিষয়টি স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে ধর্মপাশা থানার ওসিকে জানান তিনি।

পুলিশ এসে ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। তারা ডিবি পুলিশের কোনো লোক নন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে ধর্মপাশা থানায় নিয়ে যায়।

ধর্মপাশা থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বলেন, ডিবি পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।