বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীকে মারধর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।।  বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধরের ঘটনায় আহত হয়েছেন পলাশ টেকনিক্যাল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী খাইরুল করীম রাজন। তাঁর বাড়ি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের পুরান মথুরকান্দি গ্রামে। সে মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত খাইরুল করীম রাজনকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
খাইরুল করীম রাজন ও স্থানীয়রা জানান, চলতি নদীরপাড়ে বালু ড্রাম্পিং এবং পাড় কেটে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে মথুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা কিতাব আলীর ছেলে দ্বীন ইসলাম, হাছেন আলীর ছেলে আব্দুর রশিদসহ কয়েকজনের সাথে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনার জের ধরে শনিবার রাত অনুমান সাড়ে ১১টায় দ্বীন ইসলাম গংরা কলেজ শিক্ষার্থী খাইরুল করীম রাজনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় চলতি নদীরপাড়ে। নদীরপাড়ে বালু ড্রাম্পিং এবং পাড় কেটে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার বিষয়ে রাজনের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে তাঁরা। তখন ১০-১২ জন লোক রাজনকে ঘিরে ফেলে এবং মারধর করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দ্বীন ইসলাম তাঁর বাড়িতে রাজনকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন দৌঁড়ে এসে রাজনকে উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
পলাশ টেকনিক্যাল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী খাইরুল করীম রাজন বলেন,‘আমাকে এলাকার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম সহ আরও কয়েকজনে অযথা মারধর করেছে। আমি এটার বিচার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা ডা: আহসান হাবীব বলেন,‘আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় খাইরুল করীম রাজনকে দ্বীন ইসলামের বাড়িতে নিয়ে মারধর করার খবর পেয়ে সেখানে যাই। একজন কলেজ শিক্ষার্থীকে অযথা মারপিট করা সম্পূর্ণ অন্যায়।’ দ্বীন ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, শিক্ষক জিয়া উদ্দিনসহ অনেকেই এই ঘটনার নিন্দা জানান।
অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম বলেন,‘চলতি নদীরপাড়ে বালু উত্তোলনের বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল রতনের সাথে। রাতের বেলায় ডেকে আনলে রতনের ভাই খাইরুল করীম রাজনে উল্টাপাল্টা কথা বলায় তাঁকে দুই একটি চড় দেই। পরে রাতেই এই ঘটনার মীমাংসাও হয়েছে।’
আহতের ভাই রেজাউল করীম রতন বলেন, মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।