ফ্রান্স পুলিশ ‘ইয়াবর’ নামের ব্যক্তিকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

বদরুল বিন আফরুজ ফ্রান্স থেকে

সিলেটের ওসমানি নগরের বাসিন্দা ‘ইয়াবর'(৪৫) তিনি ২০১৫ সালে প্যারিসে আসেন এরপর রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করেন কিছুদিন পরেই আবেদনটি রিজেক্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালে তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট দিয়ে মালাদি কাগজের অাবেদন করেন।

 

মালাদি কাগজের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলাকালিন সময় পাপিয়া কন্ট্রোলের হাথে তিনি গত ২১ আগস্ট প্যারিস পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তিনি জেলে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন এসোসিয়েশনের মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করেন কিন্তু কোর্ট তার কাগজপত্রে তল্লাশি করে দেখা যায় তিনি দুইটি এড্রেস ব্যবহার করেছেন কোর্ট এ বিষয় নিয়ে উকিলের সাথে প্রশ্ন তোলেন এবং সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিতে পারায় তার আবেদনটি খারিজ করে দেয়। কোর্ট বাংলাদেশে ফেতর পাঠানোর আদেশও দেয়।

 

তিনি জেলে থাকা অবস্থায় পুনরায় আবেদন করলেও তার আবেদনটি তৃতীয় বারের মতো খারিজ করে অবশেষে আদালতের নির্দেশ হিসেবে গত একমাস আগে তাকে বিমানে ওঠাতে গেলে তিনি কান্নাকাটি করলে তাকে আবার ফেরত এনে জেলে হাজতে রাখে। কোর্ট আবারও দেশে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এই হিসাবে ফ্রান্স পুলিশ গত ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার বিমানে উঠিয়ে তাকে কড়া নজরদারিতে ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নিয়ে যায় এবং ফ্রান্স পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ইয়াবারকে বুঝিয়ে দেয়।

 

এ বিষয়ে ফ্রান্স থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন ফ্রান্সের পুলিশের হাতে ইয়াবারের পাসপোর্ট ছিলো তাই তাকে বাংলাদেশ ফেরৎ পাঠাতে তাদের কোনো জটিলতা ছিলোনা বলে তিনি মনে করছেন। ইয়াবর প্যারিসে রাজমিস্ত্রি কাজ করতেন তিনি কাজে যাবার পথে মেট্রোতে কন্ট্রোলের হাতে গ্রেফতার হন। ইয়াবার একজন ফরাসি মালিকের কাজ করতেন তিনিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তাকে ছুটানোর জন্য অবশেষে ব্যর্থ হন।

 

২০১৮ সালে নতুন ইমিগ্রেশন একটি আইন হয় আর এই আইনের জটিল মারপ্যাচে থাকায় ইয়াবারকে কড়া নজরদারীতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় ফ্রান্স পুলিশ। ফ্রান্স কমিউনিটির সদস্যরা বলেন যেসব বাংলাদেশী কাগজহীন আছেন আপনারা ঠিকানা বা কাগজপত্র যথাসম্ভব নির্ভুল রাখার চেষ্টা করবেন এবং পাপিয়া কন্ট্রোলে সর্বদা সর্তক থাকার আহ্বান জানান।