শেখ হাসিনার নামে ভূমি দিয়েও উপজেলা কমিটি থেকে বাদ পড়লেন মুজিব প্রেমিক কবির আহমদ

সুরমা ভিউ।।  কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে কবির আহমদ (৬৫)। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জে পরিচিত তিনি। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রতিটি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কবির ও তার পরিবার। নিজ দল আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ১৯৯৮ সালে দলীয় কার্যালয়ের জন্য তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নামে নিজের ৭ শতক ভূমি লিখে দেন কবির আহমদ। গত ২১ বছর ধরে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের বুধবারী (ইসলামগঞ্জ) বাজারে অবস্থিত ওই জমিটির ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ পরিশোধ করে আসছেন তিনি। সেই জমিতে আজও নির্মাণ হয়নি আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস। এত বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর জমিটুকুর দেখভাল কবির আহমদই করে আসছেন। ২০০৫ সালে গঠিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয় কবির আহমদকে। কবির আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগ সমর্থন করার কারণে বিএনপি জোট সরকারের আমলে হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। কবির আহমদকে জড়ানো হয় একাধিক মিথ্যা মামলায়। মামলা হামলার শিকার বৃদ্ধ কবির এখন নিঃস্বপ্রায়। বর্তমানে দলের সু-সময়ে কোথাও নেই তিনি। সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এই কমিটিতে স্থান হয়নি নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী কবির আহমদের।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কবিরের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ আহমদ জানান, আমি জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমার বাবা আওয়ামী লীগ করার জন্য অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও আমাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের বড় করে তুলেছেন। দলের দুঃসময়ে বাবা জয় বাংলার স্লোগান দিয়েছেন। আজ সুসময়ে, দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার বাবার স্থান হয়নি। আসলে বিশ^াস করতে কষ্ট হচ্ছে। যাদের কখনো আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেখা যায়নি, তারা কমিটিতে ভালো ভালো অবস্থানে রয়েছে। আসলে সুসময়ে ত্যাগীদের সবাই ভূলে যায়।
কবির আহমদ বলেন, আমি কখনো পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে এতটা বছর আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছি। বাকিটা জীবনও কাটিয়ে দিতে পারব। নিজের অর্থাভাবের কারণে বুধবারী বাজারের প্রধানমন্ত্রীর নামের জমিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করতে পারিনি। নেত্রীর প্রতি অনুরোধ, আপনার আমানত আমি এত বছর ধরে দেখাশুনা করে আসছি। বেঁচে থাকতে ওই জমির উপর দলীয় কার্যালয় দেখে যেতে চাই।