চিরনিদ্রায় শায়িত আ’লীগ নেতা আব্দুল আওয়াল ধলিক

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।  দোয়ারাবাজারের বর্ষীয়ান আ’লীগ নেতা, প্রতিবাদী কন্ঠ, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আব্দুল আওয়াল ধলিক (৭০) আর নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কঠিন দূরারোগ্য ব্যাধিতে ভূগছিলেন। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি–রাজিউন)।
মরহুম আব্দুল আওয়াল ধলিক দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজি সোনাফর আলীর পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৪ কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার বিকাল ৩টায় মরহুমের নিজ গ্রাম মাছিমপুর গ্রামের পশ্চিমের মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তার পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযা পূর্ববতী স্মৃতিচারণমুলক বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক ও ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক, বীর প্রতীক আব্দুল হালিম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ছাতক-দোয়ারাবাজারের বিশিষ্টজনরা। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা পৃথক পৃথক বিবৃতিতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


উল্লেখ্য, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আব্দুল আওয়াল ধলিকের জীবদ্দশায় তিনি দোয়ারাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য, উপজেলা নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে একনিষ্ঠভাবে জড়িত থেকে নিরলস ভূমিকা পালন করে গেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি সদা আপসহীন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল তার বিশেষ অগ্রনী ভূমিকা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীন লড়াই করে গেছেন তিনি। বিগত ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী তার পৈতিক বাড়িঘর জ্বালিয়ে বিরাণভূমিতে পরিণত করে। আজও বহমান সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ এই বর্ষীয়ান নেতা। তিার চির বিদায়ে একজন আদর্শ ন্যায় পরায়ন বিশিষ্টজনকে হারালো দোয়ারাবাজারবাসী। স্বাধীনতার সেই ক্ষত আর স্মৃতি চির অম্লান হয়ে থাকবে।