বিদেশে লোক পাঠানোর ঝামেলায় প্রাণ গেল ৮ম শ্রেণীর ছাত্র কামরুলের

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

বিদেশে লোক পাঠানোর ঝামেলায় প্রাণ গেল ৮ম শ্রেণীর ছাত্র কামরুলের

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।  বিদেশে লোক পাঠানোর ঝামেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনের উর্পযপুরি লাতি, কিল, ঘুষিতে প্রাণ গেল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বাবুল মিয়ার ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া কিশোর ছেলে কামরুল ইসলামের (১৫)।
ময়না তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দোস্তপুুরে ্এসে পৌছিলে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণ ঘটে। রাত ৮টায় জানাজা শেষে তার দাফন সস্পন্ন হয়।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত কিশোরের বাড়িতে পিনপিনে নিরবতা। তার মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না, শুধু চোখ থেকে জল পড়ছে ঘড়িয়ে।
নিহত স্কুল ছাত্রের বাবা বাবুল মিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছতা আনতে ১২ বছর আগে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার নাজির বাজারে ভাড়াটিয়া বাসা নিয়ে বাসবাস করে আসছিলাম। ট্রলি চালিয়ে সংসার আর সন্তানের লেখাপড়া খরছ চালিয়ে আসছি। কিন্তুু একটি বিরোধের কারণে আমার নিরপরাধ একমাত্র ছেলের প্রাণ হারাতে হবে এটা কখনও ভাবতে পারি নি। এখন বারবার মনে হচ্ছে, কেন গ্রামের বাড়ি ছেড়ে গেলাম। যদি নিজ বাড়িতে থাকলাম তাহলে হয়তো ঘাতকের হাতে আমার ছেলে খুন হতো না। তার ছেলের হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি করেছেন তিনি।
এলাকাবাসি ও মামলার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে বাবুল মিয়া তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার নাজির বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় তিনি একজন ট্রলি চালক। নাজিরবাজারের পাশ্ববর্তী বিশ্বনাথ থানার বর্মদা গ্রামের ফজর আলী সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল বাবুল মিয়ার। সে সুবাদে বাবুল মিয়াকে ফজর আলী জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে যান। তখন কথা প্রসঙ্গে ট্রলি চালক বাবুল মিয়া ফজর আলীকে বলেন, তার ছোট ভায়রা নাম সালাউদ্দিন তিনি কাতারে থাকেন। আপনি চাইলে, সালাউদ্দিন ও আমার শ্যালিকার সঙ্গে এবিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। পরে ফজর আলী আমার ভায়রার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ছোট ছেলে আল আমিনকে ৪ থেকে ৫ মাস পূর্বে বৈধভাবে কাতারে পাঠান। কাতারে ভিসা এবং কাজ নিয়ে সালাউদ্দিনের সঙ্গে আলা আমিনের মনোমালিণ্যতা সৃষিষ্ট হয়। বিষয়টি সমাধানে ট্রলি চালক বাবুল মিয়া চেষ্ঠা চালালেও ফজর আলী এবং তাদের লোকজন হুমকি দিতে থাকে ট্রলি চালককে। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে রাতে ফজর আলীর গংরা ট্রলি চালকের বাসায় গিয়ে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে কালি ষ্ট্যাম্পে সাক্ষর দেয় বাবুল মিয়ার। এই দৃশ্য বাবুলের ছেলে নাজির বাজার জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র কামরুল মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। এ বিষয়টি টের পেয়ে যায় ফজর আলীর লোকজন।
গত ১ ডিসেম্বর ফজর আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি ট্রলি চালকের ওপর হামলা চালায়। এতে বাঁধা দেন বাবুলের স্ত্রী সন্তানরা। ্এসময় বাবুলের কিশোর ছেলে কামরুল ইসলামকে বেধর লাতি, কিল, ঘুষি মেরে তাকে গুরুত্বর আহত করে টুলি চালক বাবুল মিয়াকে ফজল আলীর লোকজন জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। এদিকে স্কুল ছাত্র কামরুল কে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ ডিসেম্বের (মঙ্গলবার) ভোরে চিকিসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকেলে নিহত স্কুল ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থাকায় ফজর আলীকে প্রধান চার জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার চার আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ধর্মদা গ্রামের ফজর আলী (৫৫), তার ছেলে আব্দুস সামাদ আশরাফ (২৫), সুয়েব মিয়া (২১) ও লায়েক মিয়া (১৯)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই লোকমান জানান, হত্যার মামলার চার আসামীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ