জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ

সুরমা ভিউ।।  ২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথ পাঠ করান জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম মাসুম। শপথ শেষে দেশবাসী ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

শুরুতে মহান রব্বুল আলামীনের প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করেন ডা. শফিকুর রহমান। আমীরের দায়িত্ব পালনে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া চান। সদ্য সাবেক আমীর মকবুল আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নতুন আমীরে জামায়াত যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের বীর মুজাহিদ ও শহীদদের স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফাঁসিকাষ্ঠে শাহাদাত এবং কারাগারে মৃত্যুবরণকারী শীর্ষ জামায়াত নেতাদের শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন।

প্রশাসনের নির্বিচারে বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং গুমের কঠোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত, ছাত্রশিবির, ছাত্রীসংস্থাসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান করেন। অসুস্থ বন্দিদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্যে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার নয়। আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন একযোগে মধ্য রাতে ডাকাতি করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে।

আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক নাজুক পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন জনগণের নির্বাচিত সরকার না থাকাকে দায়ী করেছেন আমীরে জামায়াত। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতায় সরকারের হস্থক্ষেপে হতাশা ব্যক্ত করেন। দেশে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির জন্য ভংগুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিদেশী অপসংস্কৃতির প্রভাবকে দায়ী করেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা, সীমান্ত দিয়ে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন প্রসঙ্গে সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের ওপর জুলুম নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান। নিপীড়ন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান করেন।

দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন আমীরে জামায়াত। দেশে সুশিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান তৈরিতে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতেও তৎপর থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে জানতে এবং মূল্যায়ন করতে বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ এবং আলেমদের প্রতি আহ্বান করেন ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলনের পরিচয় তুলে ধরে দলীয় নেতকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সাংগাঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রতিটি মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি জামায়াত নেতৃবৃন্দকে উদ্বুদ্ধ করেন। দাওয়াতী কাজে আরো
মনোনিবেশ করার আহ্বান করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা আগে দাওয়াত পাওয়ার হকদার। জামায়াত নেতকর্মীদের ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ে পার্থিব সফলতার চেয়ে আখেরাতের সফলতাকে অগ্রাধিকার দিতে বলেন। নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, মৌলিক মানবীয় গুণাবলী ও চারিত্রিক মাধুর্যতা দিয়ে সকলের মন জয় করার আহ্বান করেন। জামায়াত আমীর সকল রাজনৈতিক মত ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। জামায়াতে ইসলামীর দেশ

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ