|

সিজারিয়ান মায়ের যত্নে যা করবেন

গর্ভবতী মায়ের সন্তান গর্ভে থাকাকালীন যেমন তার যত্ন নিতে হয় তেমনি সন্তান জন্ম দানের পরে তার অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে সিজারিয়ান যত্ন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। সিজারের পরে ৬-৮ সপ্তাহ সময় একজন মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাতে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের থাকবে হবে অতিমাত্রায় সচেতন। আপনার সামান্য অসচেতনায় হতে পারে সিজারিয়ান মায়ের বিপদ।
সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়ে মায়ের যত্ন সম্পর্কে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের গাইনি কনসালটেন্ট বেদৌরা শারমিন।
গাইনি কনসালটেন্ট বেদৌরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার সময় এবং তার পরেও শরীরের ওপর দিয়ে অনেক ধকল যায়।এ বিষয়টিকে ছোট করে দেখলে ভুল হবে। এটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার বটে।এই অস্ত্রোপচার মাধ্যমে পেটের বিভিন্ন স্তরের টিস্যু কাটা হয়। তাই সিজারের পরে একজন মায়ের যত্ন নেয়া অতিমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ।সিজারের পরবর্তী যত্ন মাকে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর সাধারণত মা ও নবজাতককে দেখতে হাসপাতালে আত্মীয়স্বজন ও পরিবার-পরিজনের ভিড় জমে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিজিটর মা ও নবজাতক উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।তাই এই সময়ে এ বিষয়ে আমরা সর্তক করে থাকি।আমরা বলে থাকি যতবেশি ভিজিটর তত বেশি জীবাণু।
তিনি আরও বলেন, সিজারের পরে কমপক্ষে এক দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।এছাড়া দ্বিতীয় দিন থেকে হাঁটাচলা করতে পারবে শুধু মাত্র বাথরুম থেকে বিছানা পর্যন্ত।এছাড়া অপরারেশনের ৬ ঘণ্টা পর একজন মা বিছানা থেকে উঠে বসতে পারবেন। যদি তিনি উঠে বসতে কোনো ধরনের সমস্যা বোধ না করে।
আসুন জেনে নেই সন্তান জন্মদানের পর সিজারিয়ান মায়ের যত্ন
সার্বক্ষণিক পরিবারের কেউ কাছে থাকা
সিজারিয়ান মায়ের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল পরিবারের কেউ সার্বক্ষণিক কাছে থাকা। মায়ের যত্ন নেয়া ছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শগুলো যথাযথভাবে পালন করা।
যত ভিজিটর তত জীবাণু
নবজাতকের জন্মের পরে সাধারণত হাসপাতালে আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজনের ভিড় জমে। নতুন নবজাতককে দেখতে হাসপাতালে আসেন সবাই। তবে অতিরিক্ত ভিজিটর এলে মায়ের ইনফেকশন হতে পারে। তাই ডাক্তারা বলে থাকেন যত ভিজিটর তত জীবাণু।
সুপ বা নরম জাতীয় খাবার
সিজারিয়ান মাকে সুপ বা নরম জাতীয় খাবার দিতে হবে। কারণ এই সময়ে শক্ত খাবার খাওয়ার কারণে মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ সময়ে শাকসবজি, ফলমূল, তরল খাবার, আঁশযুক্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
সেলাইয়ের দাগ
অনেকেরই ধারণা আছে সিজারিয়ান পর তলপেটের দাগ থেকে যায়। তবে এখন চামড়া সিল্ক দিয়ে সেলাই না করে ত্বকের নিচ দিয়ে বিশেষ ধরনের সুতোর সাহায্যে সেলাই দেয়া হয়, শুকাবার পর সুতাটি টেনে বের করে আনা হয়। এ পদ্ধতিতে দাগ অনেকটা বোঝা যায় না।এছাড়া দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তারপরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।
অস্ত্রোপচারের পর টয়লেট ব্যবহার
সিজারিয়ান মায়ের টয়লেট ব্যবহার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সর্তক হতে হবে।এটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হওয়ায় টয়লেটে উঁচু কমোডে বসার পরামর্শই দেন চিকিৎসকরা। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তার কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে টয়লেটের কাজ সারতে সাহায্য করবে।
হাঁটাচলা
সিজারের দ্বিতীয় দিন ধীরে ধীরে হাঁটাচলা করতে হবে।হাঁটাচলা না করলে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।তাই রক্ত জমাট বাঁধার ভয় যেন না থাকে তার জন্য পরের দিন হালকা হাঁটাচলা করাটা ভালো।
ভারি কাজ নিষেধ
সিজারিয়ান মা কোনোভাবেই যেন ভারি কাজ না করেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভারি কিছু আপনি তুলতে পারবেন না প্রথম ২-৩ সপ্তাহ। এছাড়া সহবাস বন্ধ রাখতে হবে প্রথম ছয় সপ্তাহ।
কোমড়ে বেল্ট ব্যবহার
সিজারের পরে কোমড়ে বেল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেল্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নয়। সার্জারির পর হাঁচি-কাশি ও টয়লেট ব্যবহার করার সময় বেল্ট ব্যবহার ভালো।এতে  আপনার হাঁটতে সুবিধা হবে।
রক্তপাত
প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।তবে ছয় সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে এটি অস্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারে পরামর্শ নিতেই হবে।
পরামর্শ : গাইনি কনসালটেন্ট বেদৌরা শারমিন

সংবাদটি 188 বার পঠিত
advertise