|

লক্ষ মুসাল্লির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হলো মুজাম্মিলের জানাজা

আবু তালহা তুফায়েল:- সিলেটের জৈন্তাপুরে মাজারপূজারিদের অতর্কিত হামলায় নিহত মাওলানা মোহাম্মদ মুজ্জাম্মিল হকের জানাজা সম্পন্ন। ২৭শে ফেব্রুয়ারি বাদ আছর হরিপুর মাদরাসা ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন সিলেট বিভাগের বরেণ্য উলামা মাশায়েখ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রায় লাখো মুসল্লি। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন শায়খ মাওলানা ইউসুফ।
জানাজা পুর্ব সমাবেশে শায়খুল হাদীস মাওলানা ইউসুফ শ্যামপুরী বলেন “একটি ওয়াজ মাহফিলে আমবাড়ী আসামপাড়া এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাদেরকে দাওয়াত দেন। যেখানে মাজারপূজারি-আটরশীরা দিন তারিখ ঠিক করে ওয়াজ করে! সেখানেই ওয়াজ শুরু করলো। আমাদের পক্ষের মাওলানা আব্দুস সালাম সাহেব তাঁর ক’জন ছাত্রসহ স্টেইজে বসা। তখন ওয়াজে কুরআনের মনগড়া অর্থ, ব্যাখ্যা শুরু করতে লাগলেন মাজারপূজারি বক্তা! তখনই আমাদের মাওলানা সাহেব উনার ভুল ধরে শুধরাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু কী শুধরাবেন, মাজারপূজারি বক্তা বলে ওঠলেন আপনি কুরআনের কী অর্থ জানেন!? সালাম সাহেব বললেন এটা আমার এলাকা, কেউ ভুল কিছু ব্যখ্যা করলে এটা নিয়ে আমি কথা বলবো না তো কে বলবে ভাই? এই শুরু।
তারপর উচ্চবাক্য। হুজুরের সাথী, উপস্থিত কওমি ছাত্রদের মারপিট, হুজুরকে মারধর। পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত। সেখানেই শাহীদ করা হয় মুজ্জাম্মিলকে।”
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ”আমি আমার ছাত্রের উচিত বিচার চাই। খুনিদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি চাই।”

তাছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে, এই ওয়াজ মাহফিল মূলত ভণ্ডদের বিরাট বড় ষড়যন্ত্র। তারা কখনো মাওলানা আব্দুস সালামকে সহ্য করতে পারেনি। তাই তারা ষড়যন্ত্র করে তাকে দাওয়াত করে, স্টেইজে রেখে ভণ্ডকে বক্তব্য দেয়। মনগড়া কোরানের অর্থ আর ব্যাখ্যা কখনো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আলেমরা সহ্য করতে পারেনি। আব্দুস সালাম এমন বক্তব্য রাখা থেকে বারণ করলে তারা আক্রমণ শুরু করে।
বেদাতিরা সবধরণের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়েই মাহফিলে আসে। তারপর শুরু হয় মাদরাসার ছাত্র সিক্ষকের ওপর আক্রমণ।

নিহত মুজাম্মিলের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের বড়ঘোষায়। বয়স ২০হবে। এ ঘটনায় অসংখ্য (অর্ধশতাধিক) ছাত্র-শিক্ষক আহত হোন। এবং মাওলানা আব্দুস সালাম এখন আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি উসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আছেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মাওলান আলিম উদ্দীন দূর্লভপুরী, মাওলান শায়খ জিয়া উদ্দীন, সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মাওলান মুহিউল ইসলাম বুরহান, আব্দুল খালিক চাক্তা, মাওলান আব্দুল বসির, মাওলানা খলিলুর রহমান, শায়খুল হাদিস আতাউর রহমান, মাওলানা মশতাক আহমদ খান, মাওলানা হেলাল আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।
সিলেটের প্রত্যেকটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ছাত্র শিক্ষক মিলে গাড়ি বহরে বুকে শুকের পাথর বেধেঁ জানাজায় উপস্থিত হন।

জানাজার পূর্বে কওমী আলেমদের বৈঠকে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল জৈন্তা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। খতমে কুরআন। স্থানীয় সকল হাটবাজারে বিক্ষোভ। এর মধ্যে খুনিরা গ্রেফতার করা না হলে সমাবেশ থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো এলাকায় উত্তপ্ততা, ক্ষোভ, আটরশী বেআতীদের প্রতি ঘৃণা বিরাজ করছে।

ওয়াজ মাহফিলে সংঘর্ষের সময় মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক যারা আহত হন। তারা হলেন- হেমু পাখিটিখি গ্রামের অব্রু মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (২৩), কানাইঘাট উপজেলার বড়বন্দ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এনাম (১৮), জৈন্তাপুর উপজেলার উপরশ্যামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মাছুম (২০), দরবস্ত গর্দনা গ্রামের মতসিন আলীর ছেলে রুহুল আমিন (২০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কামাল বস্তি গ্রামের বদরুল আলমের ছেলে হোসেইন আহমদ (১৮), গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াক্কুল গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে আলীম উদ্দিন (২৪), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আশরাফ আলী (১৮), জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার লহর গ্রামের আখলু মিয়ার ছেলে শিহাব উদ্দিন (২৩), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কামালবস্তি গ্রামের ডাক্তার শফিকুর রহমানের ছেলে নুরুজ্জামান (২২), জৈন্তাপুর উপজেলার উপরশ্যামপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ফরিদ আহমদ (২৫), সিলেট সদর জালালাবাদ পাটিনুরা গ্রামের রশিদ আলীর ছেলে মাসুক আহমদ (২২), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে আব্দুল বাছিত (২৫), জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর উৎলার পার গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে মাসুক আহমদ (৪০), জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু হাউদপাড়া গ্রামের ইমাম উদ্দিনের ছেলে বিলাল আহমদ (৩৪), কানাইঘাট উপজেলার কাজির পাতন গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে আরিফ আহমদ (২১), জৈন্তাপুর উপজেলার খারুবিল গ্রামের মোঃ আব্দুল্লার ছেলে রেজওয়ান করিম (২০), জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ভিতর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২২), আইয়ুব আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৩), দরবস্ত ডেমা গ্রামের মুনতাসির (২২), নুরুজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), জৈন্তাপুর উপজেলার খারুবিল গ্রামের ইস্রাক আলীর ছেলে মাওলানা আব্দুস সালাম (৫৫), গোয়াইনঘাট উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন (২২), জৈন্তাপুর গ্রামের মাওলানা আজির উদ্দির (৪০), জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গর্দনা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আব্দুস সালাম (২০)।

তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে ভণ্ড ও আটরশিদের বিরুদ্ধে চলছে নানা মন্তব্য। এপর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন মাদরাসা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে প্রতিবাদী, বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মুজাম্মিলের ২য়. জানাজা হবে আগামীকাল তার স্থানীয় বাড়ি বড়ঘোষা ঈদগাহ ময়দানে।

সংবাদটি 273 বার পঠিত
advertise