|

রেডিওতে ভূতের অনুষ্ঠান করে প্রতারণা, ঘণ্টায় চার্জ বিশ হাজার টাকা! ‘টেরট বাবা’ গ্রেপ্তার

রহস্যময় টেরট কার্ড ব্যবহার করে মানুষের ভবিষ্যৎ বলে দিত ‘ফেসবুক টেরট লাইভ’ নামে একটি অনলাইন শোতে। একটি এফএম রেডিও’তে কাজের সুবাদে কথায় পটু হওয়াতে সহজেই বিভ্রান্ত করতো মানুষজনকে। প্রতারণার দায়ে ওই ‘টেরট বাবা’ নামে পরিচত এম এম জাহাঙ্গীর রেজা ওরফে রাদবি রেজা (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রাদবি রেজার ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ জানতে চাইতো ও নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান জানতে কমেন্টস করত। এরপরে সমস্যার ধরণ বুঝে আলাদাভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে রাদবি তাদেরকে তার বাসায় নিয়ে সমস্যা সমাধানের নামে অর্থ হাতিয়ে নিত।

একটি ওয়েব সাইট খুলে টেরট কার্ড কন্সালটেন্সি ফার্ম খুলে বহু অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ থাকলেও তা সরকারী অনুমোদিত বলে দাবি করেছে প্রতারণায় অভিযুক্ত রাদবি।
এসব কথিত মুক্তা, পাথর, আংটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত রাদবি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ি থানার একটি মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আটকের সময় তার কাছ থেকে টেরট কার্ড, জিপিএস জ্যামার, ২২টি কথিত মুক্তা, ২৮টি ধুপ, ২টি কথিত ইস্তাম্বুলের আতর, পড়া পানির বোতল, ৩টি মোবাইল সেট, ২টি সিপিইউ ও লাইভের জন্য ব্যবহৃত ১টি ক্যামেরা জব্দ করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আসামি রাদবি ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের দিকে দেশের এক প্রতিষ্ঠিত রেডিও’র একটি অনুষ্ঠানের কথিত প্যারানরমাল (ভৌতিক-আধাভৌতিক) গবেষক হিসাবে যুক্ত হয়।  এর আগে ওই অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ভৌতিক গল্প শোনানো হত।  কিন্তু রাদবি যুক্ত হবার পর শুরু হয় মানুষের নানবিধ সমস্যার সমাধান পর্ব-টেরট কার্ড সেগমেন্ট।  যারা ওই প্রোগ্রামে অংশ নিত তাদের ফোন নাম্বার সহজেই পেয়ে যেতেন তিনি, এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নাম্বার দিয়ে সার্চ দিয়ে সহজেই ওই ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করত।

সাধারণ মানুষ কেন রাদবির সঙ্গে যোগাযোগ করত জানতে চাইলে মোল্যা নজরুল বলেন: একটি জনপ্রিয় রেডিও কাজ করার সুবাদে তার প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক রকমের ধারণা জন্ম নিত।  তারা রাদবিকে অতিমানবীয় কিছু মনে করত।  প্রোগ্রামটি জনপ্রিয় রেডিওতে প্রচার হওয়ার সুবাদে সহজেই মানুষের কাছে পৌছে যেত।  তার এই অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ারকে সত্য ভেবে সাধারণ মানুষরা তার ভক্ত হয়ে যেত, এছাড়াও তার ফেসবুকে লাখ খানেক ফ্যান রয়েছে।  সাধারণ মানুষের এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি টাকা হাতিয়ে নিত।  মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য আতর, মুক্তা, আংটি ব্যবহার করা যেত।

তিনি বলেন, রাদবি ইউটিউব ও ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন ম্যাজিক ট্রিক যেমন হাত দিয়ে জ্বীন ধরতে পারে, ব্রেইন দিয়ে লাইট জ্বালাতে পারে, খালি হাতে মোমবাতি জ্বালানো ইত্যাদি মাধ্যমে সে নিজেকে অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী দাবি করত।
গ্রেপ্তার রাদবি রেজা

রাদবির টেরট কার্ড কন্সালটেন্সি ফার্মে তার সঙ্গে দুই ঘন্টার জন্য দেখা করতে হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম ২০ হাজার পাঁচ’শ টাকা দিতে হতো।  ডর টেরট প্রোগ্রামে টেরট কার্ডের মাধ্যমে যে কাউকে লটারি জিতিয়ে দিতে পারে, ক্যান্সার ও প্যারালাইসিসের রোগীকে ভালো করে দিতে পারেন বলেও দাবি করতে টাকা হাতিয়ে নিত।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, গত বছরের ৬ এপ্রিল রাদবি মুক্তাগুলো স্বপ্নে পেয়েছেন বলেও রেডিও’র ওই অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়।  এসবের জন্য ওই রেডিও’র সাবেক এক আরজে রাদবিকে সহায়তা করত। তবে গত মাস ছয়েক আগে রেডিও কর্তৃপক্ষ রাদবিকে চাকরিচ্যূত করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মোল্যা নজরুল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সাত আটজন প্রতারিত হয়েছে এমন ভিকটিম পেয়েছি। এছাড়াও এই রাদবির নামে ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশে।

সংবাদটি 250 বার পঠিত
advertise