|

বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে ছেলের বৌভাত পণ্ড করে দিলো পুলিশ

গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান বাবলুকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় নববিবাহিত বরসহ দুই ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ৩৬ ঘণ্টা পর তাদের মুক্তি দেয়া হয়। গত ২রা মার্চ এ ঘটনা ঘটে। তবে, এখনো ক্ষোভ কাটেনি স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। পুলিশের ভয়ে এখনো পলাতক সাবেক ওই মেয়র।
জানা যায়, উপজেলার চাঁচকৈড়ে বিয়ে বাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা মশিউর রহমান বাবলুর বড় ছেলে তানভীর রহমান মিছিল-এর বিবাহ অনুষ্ঠান ১লা মার্চ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়। নববধূসহ আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিয়ে মশিউর রহমান বাবলু সন্ধ্যার আগেই চাঁচকৈড়ে তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন শুক্রবার দুপুরে ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় দেড় হাজার অতিথি অ্যাপায়নের ব্যবস্থা করে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। হঠাৎ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দিলিপ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশ এসে বিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে বৌভাতের আয়োজন বন্ধ করতে বলে। পুলিশ রান্না করার জন্য চুলায় পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে দেয়। এ সময় তারা বাবলুকে খুঁজতে থাকে এবং কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ও টেবিল ভাঙে বলেও এলাকাবাসী জানান। তখন বিয়ে বাড়িতে অবস্থানরত বিএনপি নেতা বাবলুর ভগ্নিপতি গুরুদাসপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আব্দুল খালেক মোল্লা প্রতিবাদ করলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ওই বাড়িতে পুলিশি পাহারা বসায়। মশিউর রহমান বাবলু গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।   তবে, বেলা ৩টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটা এলাকায় একটি প্রাইভেট গাড়ি থেকে বড় ছেলে নববিবাহিত তানভীর রহমান মিছিল ও তার ছোট ছেলে মিহাল রহমানকে আটক করে। এ ব্যাপারে মশিউর রহমান বাবলু মোবাইল ফোনে জানান, শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধেই বিয়ের ঠিক পরদিন বৌভাত পণ্ড করে দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ জানান, সেখানে তারও দাওয়াত ছিল তবে কেন প্রশাসন এ ধরনের কাজ করেছে তাও আমার বোধগম্য নয়। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দিলিপ কুমার দাস জানান, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করা বা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা পুলিশের কাজ নয়। বাবলুর বাড়িতে শুক্রবার সকালে জামায়াত-বিএনপির নেতারা বসে নাশকতার গোপন বৈঠক করছিল এমন খবরেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে, পুলিশের খবর পেয়ে বাবলু পালিয়ে গেলেও বৈঠকে থাকা আব্দুল খালেক মোল্লাকে  সেখান থেকেই আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণেই বাবলুর ছেলের বিয়ের পরদিন বৌভাত অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়ে বাবলুকে ধরতে না পেরে তার ভগ্নিপতি মো. আব্দুল খালেক মোল্লাকে আটক করে এবং পুলিশ পরে নববিবাহিত তানভিরসহ দু’ভাইকে আটক করে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা করার ভাষা আমার জানা নাই।

মানবজমিন

সংবাদটি 155 বার পঠিত
advertise