|

সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের কমিটি : ঠাঁই হয়নি সংসদ সদস্য অনুসারীদের

সুরমা ভিউ ডেস্কঃ ২ বছর পর পূর্ণাঙ্গ হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে প্রবাসী, শীর্ষ দুই নেতার ভাই, ছেলে, প্রয়াত নেতা স্থান পেলেও বাদ পরেছেন জেলার পাঁচ সংসদ সদস্যদের অনুসারী ত্যাগী নেতারা। উল্টো সংসদ সদস্যদের বিরোধিতাকারীরা ভালো পদ পেয়েছেন। এনিয়ে সংসদ সদস্যরা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর ক্ষুব্ধ বলে তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন কার্যনিবাহী সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন। যদিও তিনি সহ-সভাপতি হচ্ছেন বলে আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু তাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়নি উল্টো তার বিরোধিতাকারীদের পদ-পদবী দেয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওতাধীন জামালগঞ্জ থেকে রেজাউল করিম শামীম সহ-সভাপতি, ধর্মপাশা থেকে আলমগীর কবির, তাহিরপুর থেকে অমল কান্তি কর, নিজাম উদ্দিন, জামালগঞ্জ থেকে অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে রেজাউল করিম শামীম ও শামীমা শাহরিয়ার এই আসনের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এমপি রতনের কোনো অনুসারীর কমিটিতে জায়গা হয়নি।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে ড. জয়া সেনগুপ্তা কমিটির দুই নং সদস্য। তাঁর কোনো অনুসারীর স্থান হয়নি কমিটিতে। এই আসনে নির্বাচনে ইচ্ছুক জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের বেশ কয়েকজন অনুসারী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেনÑ সহ সভাপতি অবনী মোহন দাস, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আজাদুল ইসলাম রতন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী, উপ প্রচার সম্পাদক হুমায়ূন রশিদ লাভলু, সদস্য আলতাব উদ্দিন, মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী, আল আমিন চৌধুরী। এর মধ্যে হুমায়ূন রশিদ সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, আজাদুল ইসলাম রতন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি জেলা কমিটির প্রথম সদস্য হয়েছেন। তবে তার কোনো অনুসারীই কমিটিতে স্থান হয়নি। তবে তার সংসদীয় আসন থেকে সহ-সভাপতি হয়েছেন সিদ্দিক আহমদ, অ্যাড. শফিকুল আলম, অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন, সৈয়দ আবুল কাসেম, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, রেজাউল আলম নিক্কু, হাজী আবুল কালাম, তৈয়ব কামালী, সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে আবার সৈয়দ আবুল কাসেম, তৈয়ব কামালী, সিরাজুল ইসলাম যুক্তরাজ্য প্রবাসী। এই আসনটিতে আজিজুস সামাদ ডন আ.লীগের টিকেটে নির্বাচন করতে চান।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে আ.লীগের দলীয় কোনো সংসদ সদস্য নেই। জেলা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবীর ইমন দু’জনেই নির্বাচন করতে চান এই আসন থেকে। কিছুদিন আগে দু’জনার মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে দু’জনইে এক হয়ে রাজনীতি করছেন। সদরেও দু’জন ভাগ করে পদবী নিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের এমপি মুহিবুর রহমান রহমান মানিক পেয়েছেন সহ-সভাপতি পদ। তিনি আগের কমিটিরও একই পদে ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর ‘প্রতিপক্ষ’ ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী পেয়েছেন যুগ্ম সম্পাদকের পদ। তাঁর ছোটভাই শামীম আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের পদ। একই ঘরে দুই পদবীর জন্য আলোচনা-সমালোচনা চলছে। যদিও এই আসনের প্রবীণ দুই নেতা দোয়ারাবাজার উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক ও ছাতক উপজেলা আ.লীগ নেতা আবরু মিয়া তালুকদার, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের ঠাঁই হয়নি কমিটিতে। এনিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ।
২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে মতিউর রহমানকে সভাপতি ও ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। দুই বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্যগণ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের ব্যক্তিগত সহকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, “সবিনয়ে বলতে চাই, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কথিত অনুমোদিত কমিটি সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদের বিশ্বাসযোগ্য কোন ভিত্তি না থাকায় আমার বদ্ধমূল ধারণা জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন বিষয়ক সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে বোগাস ও উদ্দেশ্যমূলক। প্রকৃতপক্ষে তা আসন্ন সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নিশ্চিত বিজয়কে নস্যাৎ করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের একটি অংশ মাত্র।”
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন বলেন, জেলার শত শত নেতা-কর্মী রয়েছেন জেলা কমিটিতে স্থান পাবার মত। কিন্তু কমিটি করতে হয় ৭৫ জনের। এরপরও অনেকেই বাদ পড়েছেন। দল অবশ্যই বাদ পড়া নেতাদের মূল্যায়ন করবে।

সংবাদটি 279 বার পঠিত
advertise