বিশ্বনাথে বোরো ধানের মাঠ এখন কৃষকের পদভারে মুখরিত

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা জুড়ে ধান কাটার ধুম পড়েছে। এর ফলে কৃষক কৃষানীদের মনে আনন্দের দোলা দেখা দিয়েছে। গত বছরে আগাম বন্যায় হাওরের ফসল রক্ষা বাধ ভেঙ্গে কাচা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সবক’টি হাওর থেকে কৃষকরা এক মুঠো ধান গোলায় তুলতে না পারলেও চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে বাম্পার ফসল হওয়ায় এবার কৃষক কৃষানীদের মধ্যে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। গত বোরো মৌসুমের শুরুতে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় উপজেলার সবকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে আধা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে কৃষকসহ লোকজন চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তায় ভিজিডি, ভিজিএফ চাল, নগদ অর্থ এবং কৃষি উপকরণ, সার বিজ, কৃষকদের প্রনোদনাসহ সকল প্রকার সহযোগিতা এখনো চলমান রয়েছে। বোরো মৌসুমের শুরুতেই এলাকাজুড়ে দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। আগাম ফলনকৃত ধান পেঁকে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটার যন্ত্র নিয়ে সকাল থেকেই জমির দিকে ছুটে যাচ্ছেন আর কৃষানীরা তাদের সোনালি ফসল গোলায় উঠাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার উপজেলার কৃষকদের মনে আনন্দেও বন্যা বইছে। যে সকল কৃষক এ বছরই প্রথম বোরো চাষ করেছিলেন, তারা ধানের বাম্পার ফলন দেখে বোরো চাষের প্রতি আরো বেশী আগ্রহী হয়ে পড়ছেন, অনেকেই হয়েছেন বোরো ধান চাষ করে বাম্পার ফলনের অধিকারী। সোনালী ধানের মাঠ এখন মানুষের পদভারে মুখরিত। নবীন-প্রবীন মিলে প্রতিটি হাওরে তাই আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। আর এরই মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় চাষকৃত জমির ধানের মধ্যে প্রায় ২৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে এবং বাকী ৭৫ ভাগ ধান ঘোলায় তোলতে আরো ৮-১০ দিন সময় লাগবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষাবাদ হয়েছে ১৩হাজার ৭৯৮ হেক্টর। এর মধ্যে উপশী জাতীয় ধান চাষ করা হয়েছে ১৩হাজার ৭৬৮হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড চাষ করা হয়েছে ৮৮০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের টেপু, গর্চি, গাছমাল ১৫০ হেক্টর। উপজেলার হাওরগুলোতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে সকল ধানা গোলায় তুলতে আরো ১৫-২০দিন সময় লাগবে।
উপজেলা দৌলতপুর ইউনিয়নে হাওর ও বিলের সংখ্যা বেশী থাকায় এ ইউনিয়নে বেশী আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাউলধনী, গোয়াহরি গ্রামের বড় বিল, দূর্যাকাপন হাওর, দরঙ্গবিল। এছাড়া বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বেলার হাওর, ইকরাম বিল (পশ্চিম শ্বাসরাম) রামপাশা ইউনিয়নের নলিয়া বিল, রামচন্দ্রবিল, দোহাল বিল, উকলা বাধ, পাচলার খাল, ইলামেরগাঁও, লামাকাজী ইউনিয়নের হাজারাই বাধ, ভূরকির বিলে ব্যাপকহারে বরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষক আবদুল বারী বলেন, এবছর ফলন ভাল হয়েছে। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষে হবে।
কৃষক রইছ আলী বলেন, কৃষকদের পূর্ণবাসনে সরকার বোরো ফসল উৎপাদনের জন্য বিনা মূল্যে সার ও বীজ দিয়েছে। ঠিকমত বোরে ফসল ঘরে তুলতে পারলে আগের বছরের ক্ষতিটা কিছুটা পূরণ হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসার আলীনূর রহমান বলেন, এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের ফলে যেমন কৃষকরা আনন্দে আছেন, তেমনি আমরাও আনন্দে আছি, আমাদের কষ্ঠটুকু সার্থক হয়েছে বলে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে কৃষকদের। এক বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কৃষককে বীজ, সার ও নগদ ১হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।