|

ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইসি কমিটির অবস্থান ধর্মঘট

ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ পিআইসি কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকল্পের টাকা পাওয়ার দাবীতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় দু’ঘন্টা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন সিংচাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলসহ পিআইসি কমিটির সদস্যরা। সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের সাকুল্য টাকা না পাওয়ায় তারা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মেঝেতে বসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করতে থাকে। অবস্থান ধর্মঘটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভ ষ্ট্যাটাস ছেড়ে দিলে এ নিয়ে উপজেলার সর্বত্রই তোলপাড় শুরু হয়। আলোচনায় চলে আসে পিআইসির নামে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হরিলুটের বিষয়টি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান ধর্মঘটকারীদের মেঝে থেকে চেয়ারে এনে বসান। খবর পেয়ে ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিবেশ অনেকটাই শিথিল হয়ে আসে। আলোচনার মাধ্যমে টাকা প্রাপ্তির বিষয়টির সাময়িক সমাধান করা হয়। উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরে ৪টি পিআইসির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করে পাউবো। কিন্তু বাঁধের নির্ধারিত পরিমাপ ছাড়াও এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পূর্নাঙ্গ বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে আরো ৩৪০মিটার অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে পিআইসি কমিটির দাবী। হাওরের ফসল কাটা শেষ হলেও উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ৩৪০মিটার বাঁধ নির্মাণের টাকা অজ্ঞাত কারনে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত ৩৪০মিটার বাঁধ নির্মাণের টাকার জন্য পিআইসি কমিটি বার-বার ধর্না দিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়সারা মনোভাবে প্রকল্পের অতিরিক্ত বরাদ্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। অতিরিক্ত বরাদ্ধের টাকা প্রাপ্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একে অন্যকে দায়ি করে যাচ্ছেন। ২০ ফেব্রুয়ারী নির্বাহী কর্মকর্তা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, চাউলীর হাওরের ৪টি পিআইসির জটিলতা নিরসনে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশক্রমে ১৪ ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, সিলেট পাউবোর তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী, এএসপি সার্কেলসহ উপজেলা কমিটির সদস্যবৃন্দ সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সে মোতবেক সংশোধিত প্রাক্কলনতৈরী পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে বিধিমোতাবেক জেলা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেনকে নিদের্শনা প্রদান করেন। কিন্তু বর্নিত প্রাক্কলন সমূহ তৈরীপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সাহাদাত হোসেন ব্যর্থ হন। এতে চাউলীর হাওরের জন্য গঠিত ৪ পিআইসির সহিত চুক্তিপত্র সম্পাদন, কার্যাদেশ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উপ সহকারী প্রকৌশলীর গাফিলতির কথা উল্লেখ করেছেন চিঠিতে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা থাকা সত্বেও চাউলীর হাওরের অতিরিক্ত বরাদ্ধ নিয়ে ইউএনও টালবাহানা করছেন। ইউএনও মহোদয় এ বিষয়ে একেক সময় একেক কথা বলে কাল ক্ষেপন করে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান এ ব্যাপারে জানান, ল্যান্ড সার্ভে রিপোর্টে অতিরিক্ত বাজেটের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। একটি বেসরকারী সংস্থা তাকে না জানিয়েই চাউলীর হাওর প্রকল্প সার্ভে করেছে। অতিরিক্ত কাজের বরাদ্ধের জন্য ইউএনও মাধ্যমে একটি আবেদন করলে আবেদনে তিনি সুপারিশ করবেন। জেলা কমিটির সভায় আবেদন মঞ্জুর হলে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেয়া হবে।
সংবাদটি 89 বার পঠিত
advertise