|

রমজানে প্রতিদিন কয়টি খেজুর খাবেন!

পবিত্র মাহে রমজানে খেজুর বা খোরমা ইফতারে এক পবিত্র নিয়ামত। খেজুরের পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ এতটাই বেশি যে শুধুমাত্র একটা খেজুর খেয়ে সাহাবীগণ রোজা পালন করতেন এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে।

আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কাছে খেজুর ছিলো অত্যন্ত প্রিয়। এই খেজুরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ লবণ ও প্রচুর আঁশ বা ফাইবার রয়েছে যা শরীরের পুষ্টি যোগায়। থাকা যায় দীর্ঘক্ষণ সজীব ও সতেজ। আর প্রাচীনকাল থেকে এই খেজুর ইফতারে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তবে গরমের দিনে দু-তিনটির বেশি খেজুর না খাওয়ার কথা বলছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা বলছেন, গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় শরীর ঠিক রাখতে একটু দেখেশুনে খাওয়াই ভালো। যেসব খাবার শরীর ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখে, সেসব খাবারই খাওয়া দরকার। কিন্তু কিছু খাবার আছে, যা শরীর গরম করে। সেসব খাবার পরিমিত খাওয়া উচিত। এর মধ্যে খেজুর অন্যতম। তবে খেজুর খাওয়ার আগে তা বুঝেশুনে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

জেনে নিন খেজুরের গুণাগুণ

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি অন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা দূর করে
২. খেজুরে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের কারণে হাড় মজবুত হয়
৩. রক্তাল্পতা দূর করার দারুণ এক উৎস খেজুর
৪. যেকোনো ধরনের অ্যালার্জি বা চুলকানি দূর করতে করতে সহায়তা করে
৫. খেজুর শক্তিবর্ধক
৬. হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে কার্যকর
৭. ডায়রিয়া-জাতীয় সমস্যা দূর করতে পারে খেজুর।

ভারতের ফরটিস হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সিমরান সাইনি এনডিটিভি অনলাইনকে বলেছেন, খেজুর যেহেতু শরীরে তাপ উৎপন্ন করে, তাই দিনে দুই বা তিনটির বেশি খাওয়া ঠিক নয়। এ কারণে গরমের চেয়ে শীতের সময় খেজুর খাওয়া ভালো। কারও শরীরে যদি বেশি মাত্রায় লৌহ বা আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, তবে তিনি দিনে দুই বা তিনটির বেশি খেজুর খেতে পারেন।

ভারতের আরেক পুষ্টিবিদ শিল্পা অরোরা তাঁর সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, ‘গরমেও পরিমিত মাত্রায় খেজুর খেলে সমস্যা হয় না। তবে দুই বা তিনটির বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। খেজুর খাওয়ার সঙ্গে অন্যান্য খাবারের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে।’

তাই খেজুরের পুষ্টি শুধু শরীরের শক্তি রক্ষায় সহায়ক তাই নয়, এর খনিজ লবণ পানিশূন্যতা রোধেও সহায়ক। তাই প্রতিদিনের ইফতারে অবশ্যই অন্তত দু’টি খেজুর রাখুন। খেজুরের পুষ্টি ও ভেষজগুণের কারণে রোজাদারগণ সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারবেন।

সংবাদটি 128 বার পঠিত
advertise