|

বিকাশমান বাংলাদেশের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান – নজির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য

 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের অপূঁজিবাদী একটি মিশ্র অর্থনীতি চালু হয়। আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতি ও শাসন পদ্ধতি কি হওয়া উচিত সে ব্যাপারে একেবারেই দিশেহারা হয়ে যায়। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নামের ইউটপিয়া আওয়ামী যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং তখনকার শাসকগোষ্টির চিন্তা ও শাসনকে অস্থির করে তুলে। এশিয়টিক মোড অব ডেমক্রিসির এই অঞ্চলের স্বরূপ উন্মোচনের রাজনৈতিক মেধা আওয়ামী লীগে দৃশ্যমান হয়নি। ফলে তখনকার শাসকগোষ্টি ভুল পথে ধাবিত হয়ে বহুদলীয় শাসনের কমিটমেন্ট থেকে সরে গিয়ে বাকশাল গঠন করেন। কমিউনিষ্ট পার্টি আওয়ামী লীগকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিপথগামী করে। শিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে শিশু পূঁজিবাদকে হত্যা করা হয়। এশিয়ার পাশ্চাত্য অর্থে পূঁজিবাদ গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
পূঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিকে ধারণ করে কৃষি বিপ্লবই ছিল মুল করণীয়। আওয়ামী লীগ তা না করতে পারার ফলে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। দুর্নীতির অপশাসনে সমাজ জীবন কলুষিত হয়ে পড়ে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালকাঁটা কর্মসূচি (সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন), কৃষি ভুর্তুকী, কৃষিঋণ প্রবর্তন, কৃষিকে যান্ত্রিক করণ, সার, বীজ, কীটনাশক ঔষধ সরবরাহ, উন্নত জাতের ফলনশীল ধান প্রবর্তন, গ্রাম সরকার, গ্রাম রক্ষী বাহিনী গঠন, মৎস্য উৎপাদনে আধুনিক নীতি ব্যবস্থা প্রনয়ন, জাল যার জলা তার নীতির বাস্তবায়ন, মৎস্য চাষে বৈজ্ঞানিক উৎপাদন ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়া ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহন করে কৃষিতে গুণগত পরিবর্তন এনে কৃষি বিপ্লব শুরু করেন। খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে যায়। সমাজের দক্ষিণ শক্তি এবং সামরিক বাহিনী, অসন্তুষ্ট বামপন্থী সহ সমাজ জীবনে সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চত করেন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন।
উৎপাদনমুখী শিল্পনীতি প্রনয়ন করে জাতীয়করনের হ্রাস টেনে ধরে বাজার অর্থনীতি চালু করেন। জাতীয় চরিত্রের উৎপাদক শ্রেণি গড়ে উঠার সকল সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সামগ্রিক শিক্ষা বিপ্লব ঘটান। অবকাঠামো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করেন। সার্ক দর্শন ও সার্ক বাস্তবায়ন করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিকট প্রতিবেশীর কাছে বন্ধুত্ব পৌঁছে দেন। পাশ্চাত্য, প্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন তুলে ধরে একটি সামাজিক রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করেন। স্বাধীনতার শত্রুদের নির্মুল করতে না পারার কারণে পাকিস্তানি ভাবধারা ও সমাজে চলমান দ্বিজাতি তত্ত্বের সংমিশ্রনে এক ডানপন্থী ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে ওঠার বিপরীতে ডান বাম মধ্য পন্থীদের এক প্লাটফর্মে সমবেত করার কৌশল গ্রহন করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতির একটি মধ্য ধারার সৃষ্টি করেন। সৎ, সাদাসিধে জীবন যাপন এবং কঠোর প্রকৃতির শাসকের যোগ্যতা তাকে এশিয়ার এক জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করে। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতান্তিক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। দেশে ইলেকট্ররেল ডেমোক্রেসির ধারা সূচিত হয়। আর এই ইলেকটরেল ডেমক্রেসির ধারাটি ২০১৪ সালে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে দমন ও নির্যাতন করে দেশনেত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়াকেই জেলে দেয়নি মূলতঃ গনতন্ত্রকেই জেলবন্ধী করেছে।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী কোন স্বৈরাচারই শেষ পর্যন্ত ঠিকে থাকতে পারেনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয় ঐক্যের দর্শনটি ধারন করে গনতান্ত্রিক শক্তির নূন্যতম ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদীদের সাংগঠনিক শক্তি শান্তিপূর্ন আন্দোলনের মাধ্যমে অচিরে স্বৈরাচারের পতন ঘটাবে।

সংবাদটি 251 বার পঠিত
advertise