|

বিএনপিকে ‘শিক্ষা’ দিতে চায় জামায়াত

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ভোট করে বিএনপিকে শিক্ষা দিতে চায় নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও প্রার্থী প্রত্যাহার করবে না দলটি। জয় নয়, জোটসঙ্গী বিএনপিকে বার্তা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। আগামী নির্বাচনে সম্মানজনক সংখ্যক আসনে ছাড় না দিলে বিদ্রোহী হবে জামায়াত- সিলেট থেকে এ বার্তাই দিতে চায় তারা। জামায়াতের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। মেয়র পদে রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। কিন্তু সিলেটে স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জোবায়ের। জামায়াতের চাওয়া ছিল, দেশের ১১টি সিটির অন্তত একটিতে মেয়র পদে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে জোট। সে অনুযায়ী সিলেটকে বেছে নেয় দলটি। ছয় মাস আগে ভোটের প্রচারে নামে তাদের নেতাকর্মীরা।

সিলেটে মেয়র পদে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে গত নির্বাচনে জয়ী বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীকে। আগামী ৯ জুলাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেই পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা প্রচেষ্টা চালাবে জোট। কিন্তু জামায়াতকে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি। ছাড় না পেলেও ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াত।

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার সমকালকে বলেছেন, সারাদেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের ১০টিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন করেছে জামায়াত। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও সরে দাঁড়িয়েছে। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে জামায়াতের একটি সিটিতে মেয়র পদে জোটের সমর্থন পাওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত- বিএনপি তাদের সিলেটে ছাড় দেবে না। তারপরও সরে দাঁড়াবে না জামায়াত। এহসানুল মাহবুব জোবায়ের সমকালকে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী হয়েছি। দলীয় সিদ্ধান্ত হলো- জোটের সমর্থন না পেলেও জামায়াত নির্বাচনে থাকবে। পরিস্থিতি যা-ই হোক, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

রাজশাহী ও বরিশালে মেয়র পদে বিএনপিকে সমর্থন করলেও সিলেটে জামায়াতের অনড় অবস্থানের কারণ সম্পর্কে দলটির সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জামায়াতের মূল্যায়ন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জয় আসবে না।

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জামায়াত কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে- এ প্রশ্নে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির সমর্থনে তারা সব জায়গায় প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন সিটির নির্বাচনই সবচেয়ে বড় ভোটের লড়াই। এবারও ছাড় দিলে বিএনপি ধরেই নেবে, জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতকে যতটি আসন দেওয়া হবে, তাতেই তারা সন্তুষ্ট থাকবে। তাই সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে তারা বার্তা দিতে চান, প্রত্যাশিত আসন না দিলে জামায়াত নিজের মতো ভোট করবে। তবে কোনো নেতা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দেননি।

১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট করে জামায়াত। টানাপড়েন হলেও দুই দলের জোট ১৯ বছর টিকে আছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩০টি আসন দেয় বিএনপি। একটি আসনে দু’দলেরই প্রার্থী ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৫ আসন ছেড়ে দেয়। চারটি

আসনে দু’দলের প্রার্থীই ছিলেন। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে জামায়াতের চাওয়া কমপক্ষে ৪৩ আসন। এসব আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও এসব আসন ছাড়তে রাজি নয় তারা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সমকালকে বলেছেন, জোটের শরিক হিসেবে রাজপথে জামায়াত তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে। নানামুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও জোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। সরকার জোট ভাঙার চেষ্টা করলেও ফাঁদে পা দেয়নি। জামায়াতের ভূমিকার কারণেই সম্মানজনক সংখ্যক আসনে ছাড় পাওয়া উচিত তাদের।

জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সিলেটের তুলনায় রাজশাহীতে তাদের অবস্থান আরও ভালো। কিন্তু সেখানে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। জামায়াতকে মূল্যায়ন করেন। কিন্তু সিলেটে বিএনপির প্রার্থী আরিফুলের অবস্থান সুবিধাজনক নয়। তার চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক ভালো। জামায়াত আলাদা নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগের সুবিধা হবে- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জোবায়ের বলেন, বিএনপিকে বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।

সংবাদটি 161 বার পঠিত
advertise