|

জোট ও ভোটের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

এম এস এইচ কামরুল: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের পাশাপাশি ভোট বর্জন করেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কিন্তু এর পর দেশে অনুষ্ঠিত প্রায় সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটি অংশ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণ করে দলটির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে দেশের অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি মিডিয়ারও দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা যে হারে ভোট পাচ্ছেন, তাতে করে আগামী নির্বাচনেই জোটের ও ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণ না করলেও দশম জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত প্রায় সকল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনতারা অংশ নিয়েছে। ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরই ভোটের অংকে তৃতীয় হয় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। তবে রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয় হওয়ার কারণে এই সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হাত পাখা নিয়ে চতুর্থ হলেও ভোট পায় প্রায় পঁচিশ হাজার ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি ভোটে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. নাসিরউদ্দিন হাতপাখা নিয়ে ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট পান। এবারই প্রথম এ সিটিতে অংশ নেয় দলটি। খুলনা সিটির নির্বাচনেও প্রথমবার অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন পায় ১৪ হাজার ৩৬৩ ভোট।
এর আগে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরেই তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইসলামী আন্দোলন। ঢাকা উত্তরে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী শেখ ফজল বারী মাসউদ পেয়েছিলেন ১৮ হাজার ভোট। আর দক্ষিণে আলহাজ্ব আবদুর রহমান পান ১৫ হাজার ভোট।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের ভোট জালিয়াতির কারণে ভোটগ্রহন শরুর আড়াই ঘণ্টা পরেই বর্জন করেছিলাম। তিনি বলেন, অনিয়ম না হলে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকেরই বিজয় হতো।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপারেশন নির্বাচনে অংশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ১২ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ৩০ জুলাইয়ে হতে যাওয়া বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতেও তাদের শক্তিশালী প্রার্থী এই ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, তিন সিটিতেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের সঙ্গেই প্রধান প্রতিযোগিতা হবে। তিনি জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৩শ’ আসনের প্রার্থী চুড়ান্ত করে ইতিমধ্যে ঢাকায় যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা অনেক ভাল করব বলে আশাবাদী।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ , বিএনপি , জাতীয় পার্টি , যুক্তফ্রন্ট ও বামপন্থীদের জোটের বাইরে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীরবে নির্বাচনী মাঠ গুছাচ্ছে। একের পর এক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোটের মাঠে চমক দেখাচ্ছে দলটি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা দিয়ে সবার আগে ৩শ’ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটির নীতি নির্ধারকরা।
এই ব্যাপারে দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ভোরের ডাককে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে এত অনিয়ম না হলে ভোটের ফলাফল অন্যরকম হতো। তিনি বলেন, আসন্ন তিন সিটিতে অবাধ ভোট হলে ইসলামী আন্দোলন তৃতীয় প্রথম স্থান অর্জন করবে বলে আমরা আশাবাদী। মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা ৩শ’ আসনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছি।
উল্লেখ্য ১৯৮৭ সালে চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সাত দল মিলে ইসলামী ঐক্যজোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়। দু’বারই সংসদে তাদের দুজন প্রতিনিধি ছিল। ২০০১এর নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন জোট বাঁধে এইচ এম এরশাদের সঙ্গে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জোট থেকে বের হয়ে ১৬০ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে মোট ভোটের ১ শতাংশের বেশি ভোট পায়। আর দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

সংবাদটি 366 বার পঠিত
advertise