|

সিলেটে অন্তরাল থেকে প্রকাশ্যে জামান

ওয়েছ খছরু।। মামলার বেড়াজালে দেশ ছেড়েছিলেন সিলেটের আলোচিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। ওখান থেকে সিলেটে তার বলয়কে চাঙা করে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সিলেটে ফিরে আসেন তিনি। আবার রাজনীতিতে নামলেন সিলেটের রাজপথে। খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার আগে সিলেটে ফিরেন তিনি। আর খালেদা জিয়া মাজার জিয়ারতের দিন তিনি সিলেটের রাজপথে উপস্থিত হয়ে শোডাউন  দিলেন। এরপর থেকে সিলেটে জামানের খোঁজ ছিল না। দেশে, না বিদেশে সেটিও কেউ বলতে পারেননি। আবার সিলেটে সরব হয়েছেন এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। তিনি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও সিলেটে দলের ভেতরে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জামান। নব গঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলে তার বলয়ে যোগ্য নেতৃত্ব থাকার পরও কিছুই পায়নি। জামান অন্তরালে, এ কারণে তার বলয় ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি সিলেট বিএনপিতেও রাজপথে আন্দোলনে নেই গতি। শুধু দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে কারাবাসে থাকলেও মুক্তির ব্যাপারে কারো কোনো গরজ নেই। সবাই সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। বলয়ের নেতারা জানান- এ কারণে আর অন্তরালে নয়, এখন থেকে প্রকাশ্যে চলে এসেছেন সিলেটের জামান। গত কয়েক দিন ধরে ফের সক্রিয় হয়েছেন জামান বলয়ের নেতারা। তারা সিটি নির্বাচন নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। বুধবার প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের সামনে চলে এলেন জামান। আর এসেই তিনি সিটি নির্বাচনকে বললেন প্রহসনের নির্বাচন। জামান দাবি করেন- ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটির নির্বাচন দেখেছেন, সরকারের নির্বাচনী মূলার ফাঁদে পা দিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন না করে এসব প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারের হাত শক্তিশালী করা হচ্ছে। জনগণ আর এসব দেখতে চায় না। জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। অক্টোপাসের নাগপাশ থেকে দেশ ও গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এটিই হওয়া উচিত মূল এজেন্ডা।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে আর কোনো প্রহসন দেশবাসী দেখতে চায় না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন চাই।’ বুধবার রাতে স্থানীয় মিরাবাজারে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মো. মকন মিয়ার সভাপতিত্বে ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হুসেন রায়হান ও মতিউল বারী খুর্শেদের সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সহসভাপতি এডভোকট আশিক উদ্দিন আশুক ও সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নাজিম উদ্দিন লস্কর, মহানগর তাঁতীদলের সভাপতি ফয়েজ আহমদ দৌলত, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাউন্সিলর দিনার খান হাসু, জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জয়নুল হক, জেলা স্বেচ্ছাসেক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদুল হক চৌধুরী, কাউন্সিলর আব্দুর রকীব চৌধুরী তুহিন, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রুজেল আহমদ চৌধুরী, মিফতাহুল কবির ও জয়দেব চক্রবর্তী জয়ন্ত, স্বেচ্ছাসেক দল নেতা দিপক রায়, মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন মাছুম, মহিলা দল নেত্রী মুক্তা বেগম, আলতাফ হুসেন বেলাল, রিনুক আহমদ, মহানগর বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক খালেছুর রশীদ ঝলক, রায়হাদ বক্স রাক্কু, তছির আলী, অর্পণ ঘোষ, আব্দুল হান্নান, মোস্তফা কামাল ফরহাদ, লিটন কুমার দাশ নান্টু, এমদাদ বক্স, আকবর হুসেন কয়ছর, মনোজ দেব, আব্দুল মতিন, বীরেন্দ্র শর্মা, আবুল কালাম, আজিম উদ্দিন রাজু, স্বপন আহমদ, মামুন আহমদ, রাশেদ আহমদ চৌধুরী, দেওয়ান নিজাম খান, ইজ্জাদ আহমদ, সাবেক জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল খালিক মিল্টন, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক টিটন মল্লিক, একরাম হোসেন, ইনতেজার আলী, জামিল আহমদ, বিল্লাল আহমদ, পারভেজ আহমদ, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম.সি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বদরুল আজাদ রানা প্রমুখ।

সংবাদটি 564 বার পঠিত
advertise