|

সিসিক নির্বাচনের মাঠে সরব সিলেট ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিবদমান দ্বন্দ্ব ও মান-অভিমান ভুলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি থেকে পদত্যাগকারী নেতারাও ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।

কিছুদিন আগেও নিজেদের ‘যৌক্তিক’ দাবী-ধাওয়া নিয়ে সিটি নির্বাচন থেকে তারা ছিলেন কিছুটা দূরে। কমিটির পক্ষের নেতাকর্মী এবং কমিটি প্রত্যাখানকারী নেতাকর্মীদের মাঝে বিশৃংখলা এতোটাই প্রকট হয়ে উঠেছিল যে আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমনটিই ধারণা করেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। তবে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

গত ১৩ জুন সিলেট ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু। কমিটিতে অছাত্র, ২০০০ ব্যাচ এবং বিবাহিত কেউ স্থান পাবে না এমন বলা হলেও ঘোষিত কমিটিতে অছাত্র, ছিনতাইকারী, মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার স্থান পেয়েছেন এমন অভিযোগ এনে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন ৮ জন নেতাকর্মী। তবে শুধু এই আটজনই নয়, তাদের সাথে কমিটিতে স্থান না হওয়া অনেক পদবঞ্ছিত নেতাকর্মীরাও একাত্মতা ঘোষণা করেন।

কমিটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে কমিটি প্রত্যাখ্যানকারীরা সিলেট বিএনপির দ্বায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদানসহ সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এতেই যেনো ঠনক নড়ে বিএনপি এবং ছাত্রদলের নীতিনির্ধারকদের। পরবর্তীতে আমির খসরু মাহমুদ ‘বিদ্রোহী’ ছাত্রদল নেতাদের ডেকে নিয়ে তাদের অভিযোগ শোনেন এবং আরিফের হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে ছাত্রদল নেতাদের নির্দেশ দেন।

ছাত্রদলের এমন কোন্দলে সিটি নির্বাচনে বিএনপির ‘ভরাডুবি’ হতে পারে- এমন বিষয় সামনে রেখেও কোন্দল থামাতে ব্যর্থ হন নীতিনির্ধারকেরা। পরবর্তীতে ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের কেন্দ্রে জরুরী তলব করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পদত্যাগকারী ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের অভিযোগ শোনেন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সিলেটের নেতাদের আশ্বস্থ করেন। এসময় তাদেরকে আসন্ন সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।

এ বিষয়ে পদত্যাগকারী ধানের শীষের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণার বিষয়ে পদবঞ্চিত মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল জানান, ‘আমরা আগে থেকেই আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছি। তবে একই সাথে ধানের শীষের প্রচারণা এবং আমারা আমাদের যৌক্তিক দাবী-দাওয়া নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকায় বিষয়টি হয়তো দৃশ্যমান হয়নি। তবে, এখন কেন্দ্র থেকে আমাদের আশ্বস্থ করায় দাবী-দাওয়া থেকে সরে এসে আমাদের প্রাণের প্রতীক, দলীয় প্রতীক ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

এদিকে সিসিক নির্বাচনে ফলাফল যাই আসুক না কেনো কমিটি বাতিল না হলে ফের কমিটি বিরোধী আন্দোলন আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্রোহী অংশের একাধিক নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে পদবঞ্চিত এমসি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক বদরুল আজাদ রানা বলেন, বিএনপির স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। দলের স্বার্থেই আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছি। তবে নির্বাচনের পর যদি ঘোষিত কমিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হয় তাহলে আবার কমিটি বিরোধী আন্দোলন শুরু হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি 175 বার পঠিত
advertise