|

কুমিল্লার নাশকতা মামলায় ৬ মাসের জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৬ জুলাই) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে ১ আগস্ট ওই আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের (৬ আগস্ট) দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

ওই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

২৩ জুলাই খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদন ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছিল। পরে এ মামলায় গত ২৫ জুলাই কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ কেএম সামছুল আলম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল করেন। সঙ্গে জামিন আবেদনও করা হয়।

জামিন আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষ করার পরে আদেশের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ঠিক করেন আদালত। আদালত বলেন, ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল চাইলে অবশিষ্ট শুনানি করতে পারবেন।

২০ দলীয় জোটের লাগাতার হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ হয়ে ৮ যাত্রী মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।

এ ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ৬ নেতাকে হত্যা ও নাশকতার পৃথক দুই মামলায় আসামি করা হয়। এ মামলায় গত ১ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার একই আদালত। তবে, ওই আদালতে জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য ৮ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেয়া হয় এবং খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১৮০দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ইতোমধ্যে আপিলের পর সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জামিন দিয়েছেন। তবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই তিনি জামিন পাচ্ছেন না।

দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

সংবাদটি 34 বার পঠিত
advertise