|

বিএনপি হত্যায় জামায়াত!

বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এখন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির।

সম্প্রতি খুলনা শহর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় তাঁর বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

লিফলেটে ওই সময়ে বিএনপি নেতাকর্মী হত্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি, চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতা, ধর্মীয় লেবাসে লুটপাটের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে কে বা কারা এ লিফলেট বিতরণ করেছে তা জানা যায়নি। পরওয়ারের নির্বাচনী এলাকা, খুলনা প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিস, নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের কাছে সম্প্রতি এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেটে অভিযোগ করা হয়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে খুলনা জেলা যুবদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোল্লা সিরাজুল ইসলাম গুলিতে নিহত হন। জেলা ছাত্রদলের চারুকলাবিষয়ক সম্পাদক নুরে আলম বাপ্পী খুন হন। এ ছাড়া থানা যুবদলের মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, শরাফপুরের মো. খোকন বিশ্বাস, আব্দুল মান্নান গাজী, উদয় শংকর দাস, আবুল কাশেম বিশ্বাস, মো. ইউনুস আলী, শফিউর রহমান সরদার, মো. চান্দ আলী, রুদাঘরার হায়দার আলী গাজী, রাজু আহমেদ, রফিকুল ইসলাম গাজী, ভাণ্ডারপাড়ার সরদার শুকুর আলী ও আটলিয়ার সঞ্জয় শীলসহ ২৩ জন খুন হন। এ ছাড়া আহত হন দুই শতাধিক।

লিফলেটে আরো উল্লেখ করা হয়, চরমপন্থী সংগঠন ‘নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা মৃণালের সঙ্গে রুদাঘরা ইউনিয়নের একটি গ্রামে গোপন বৈঠক হয় তৎকালীন এমপির।

মৃণালের সেকেন্ড ইন কমান্ড জব্বারকে দিয়ে সৃষ্টি করা হয় নতুন চরমপন্থী সংগঠন ‘জেহাদি পার্টি’। পার্টির তৎপরতার কিছুদিনের মধ্যে খুন হন জব্বার। এ ছাড়া জনযুদ্ধের অন্যতম বিডিআর আলতাফের সঙ্গেও এমপির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

লিফলেটে অভিযোগ করা হয়, আশির দশকে খুলনা নগরীর বয়রা ইসলামিয়া কলেজের প্রভাষক ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছিলেন জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি। সম্মানী পেতেন পাঁচ হাজার টাকা। ১৯৯৬ সালে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচিত

হন। দলীয় সিদ্ধান্তে কেসিসি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। বাড়ি বানানোর জন্য ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারেননি। ঋণখেলাপি হয়েছিলেন। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হয়ে ১০ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন। শুল্কমুক্ত কোটায় গাড়ি আমদানি করে পরে সেই গাড়ি বিক্রি করেন। চড়তেন টয়োটা রাভা নামের জাপানি গাড়িতে। ২০০২ সালে আটরা শিল্পাঞ্চলের আফিল জুট মিল দখল করে নেন এমপির ভাই মিয়া গোলাম কুদ্দুস। সঙ্গে ছিলেন অন্য ভাই মিয়া গোলাম খায়ের ও স্থানীয় বিএনপি নেতা এস এ রহমান বাবুল। এ ছাড়া শিরোমনি এলাকায় জায়গা দখল করে মিয়া কুদ্দুস গড়ে তোলেন পোল্ট্রি ফার্ম। শরাফপুরের চাঁদগড়ে ৪০০ বিঘার মাছের ঘের দখল করেন। এ ছাড়া লিফলেটে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এখনো লিফলেট দেখিনি। কিন্তু খুলনাবাসী জানে, সাবেক এমপি গোলাম পরওয়ার অত্যন্ত ন্যায়, নিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করেছেন। এ অভিযোগগুলো সঠিক নয়। যারাই করুক না কেন, তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ কাজ করছে। ’

ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আলী মনসুর বলেন, ‘জোট সরকারের আমলে ডুমুরিয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এসব প্রচার জোট ভাঙার কৌশলও হতে পারে। আবার যারা এখানে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তাদের কেউ এটি করতে পারে। ’

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আলোচিত লিফলেট আমি দেখিনি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ’

অভিযুক্ত মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লিফলেটে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। কাউকে খুনের প্রশ্নই ওঠে না। বরং, বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল, এখনো আছে। জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও মিথ্যা। কারণ, তখন জঙ্গি নির্মূল করেছি। এ কারণে তারা আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আমি জোটের প্রার্থী। জোটের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্ত্রি ছড়ানোর জন্য এমনটা করা হচ্ছে। এই লিফলেট বিতরণে স্থানীয় মন্ত্রীর হাত রয়েছে। ’

লিফলেট ছড়ানোর সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় কোনো লিফলেট ছড়ানো হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে তিনি (গোলাম পরওয়ার) যদি এমন কোনো অভিযোগ করেন তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে বলা উচিত। আমি কারো সম্পর্কে অপপ্রচারে বিশ্বাসী নই। আর বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ডুমুরিয়া-ফুলতলাসহ সারা দেশে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা তো দেশবাসী জানে, ওই গ্রেপ্তার-নির্যাতন-হত্যাকাণ্ডের কথা তো লুকানো কিছুই নয়, তা তো মানুষের ভুলে যাওয়ারও কথা নয়। ’কালের কণ্ঠ

সংবাদটি 139 বার পঠিত
advertise