|

সফল উদ্যোক্তা হবেন যেভাবে!

পৃথিবীজুড়েই চলছে উদ্যোক্তাদের জয়জয়াকার। মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় তরুণরা অনেকেই ঝুঁকছেন নিজস্ব উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের দিকে। অনেকে আবার ভুল পথে গিয়ে মৃত্যু ডেকে আনছেন নিজের স্বপ্নের। এতে করে হতাশায় ভুগছেন অনেক তরুণ। তবে বিশ্বজুড়েই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলীগুলো নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। সেসবের আলোকে চলুন জেনে নেয়া যাক, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার শর্তগুলি।

১. সুষ্ঠু পরিকল্পনা: প্রথম থেকেই খুব গুছিয়ে এগোতে হবে আপনাকে। এর জন্য খাতা-কলমে ছক কষে ঠান্ডা মাথায় সাজাতে হবে পুরো পরিকল্পনা। এ বিষয়ে সফলদের জীবন ও কর্মসূচী থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। চাইলে সিনিয়রদের পরামর্শও নিতে পারেন। তবে সুশৃংখলভাবে সামনে এগোতে হলে, প্রথমেই একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা চাই আপনার।

২. পেশাগত সুস্পষ্ট ধারণা: আপনি যে কাজটা করতে যাচ্ছেন তার ভালো-মন্দ সব বিষয়গুলোই মাথায় রাখতে হবে আপনাকে। সেইসাথে লক্ষ্য রাখতে হবে, কোন জিনিসের কারবার করতে যাচ্ছেন আপনি, কারা হবে আপনার মূল গ্রাহক, বছরের কোন সময়ে আপনার সিজন, বিজনেসে কেমন সুবিধা দেবেন আপনি, নতুন কোন ফর্মুলা দিয়ে চমক সৃষ্টি করবেন এইসব পেশাগত নানা বিষয়ে থাকতে হবে সুস্পষ্ট ধারনা।

৩. আত্নবিশ্বাস: শুরুতেই সাফল্য আসবে এমন নয়, আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে আত্নবিশ্বাসী হতে হবে নিজের সাফল্য নিয়ে। আপনি যদি আত্নবিশ্বাস নিয়ে লেগে থাকতে পারেন তাহলে সাফল্য অনিবার্য। একইভাবে আপনার এই তুমুল কনফিডেন্স আপনার আন্ডারে যারা কাজ করবে তাদেরও অনুপ্রাণিত করবে ভীষণভাবে। সুতরাং, আত্নবিশ্বাসের কোনো বিকল্প নেই।

৪. সৃজনশীল চিন্তা: ক্রিয়েটিভ থিংকিং এর অ্যাবিলিটি না থাকলে, উদ্যোক্তা হয়ে সামনে এগোনো কঠিন। কারণ অনেক সময় পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে থাকবেনা। তখন পরিকল্পনার লুপ হোলগুলো খুঁজে বের করতে হবে নিজেকেই। ইম্প্রোভাইজেশন বা উদ্ভাবনী দক্ষতায় নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করতে হবে পুরো প্রতিষ্ঠানে। সেইসাথে সামনে আরো ভালো করার জন্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে হবে নিরন্তর।

৫. জ্ঞান অর্জনের মানসিকতা: পুরো পৃথিবীকেই বানাতে হবে আপনার পাঠশালা। সংগ্রহ করতে হবে এন্টারপ্রিনিওরশিপের সম্পর্কে লেখা বইগুলো। সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিস্তর পড়াশোনাও থাকতে হবে আপনার। মূল কথা হল, জ্ঞান-গবেষণার প্রক্রিয়ার আপনার কখনও অবহেলা করা যাবেনা। ইন্টারনেট যেহেতু আছে, সুতরাং কষ্ট করে হলেও চালিয়ে নিতে হবে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া।

৬. ঝুঁকি গ্রহণ: প্রয়োজনে আপনাকে ঝুঁকি নিতে হবে। মনে রাখবেন, যত বড় ঝুঁকি নেবেন সাফল্যও ততো বড় হবে। তবে এ বিষয়ে বুঝে-শুনে এগোতে হবে আপনাকে। কখনও আবেগের বশে বা ঝোঁকের মাথায় কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যাবেনা। সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকি গ্রহনের প্রবণতা আপনাকে করে তুলবে একজন সফল উদ্যোক্তা।

এছাড়া মানুষের সাথে আপনার যোগযোগের দক্ষতা, প্রচার-প্রচারণা, মানবসম্পদ কাজে লাগানো এবং কর্মীদের অনুপ্রাণিত করবার মধ্য দিয়ে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে নিজের লক্ষ্যের দিকে। সমালোচনা বা নেতিবাচক চিন্তা উপেক্ষা করে আত্নবিশ্বাস নিয়ে যদি সামনে এগোতে পারেন, তাহলে সাফল্য অনিবার্য হয়ে উঠবে আপনার। সূত্র: ইউরস্টোরি ডটকম

সংবাদটি 125 বার পঠিত
advertise