|

ছাতকে আমন রোপনে কোমর বেঁধে নেমেছেন কৃষকরা

ছাতক প্রতিনিধি।।  আর ক’দিন পরেই শেষ হচ্ছে শ্রাবণ মাস। শ্রাবণের শেষ আর ভাদ্র মাসের শুরু এমন সময়টাই আমন ধান চাষের উপযুক্ত সময়। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে তাল-মিলিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতকেও চলছে আমন রোপনের ধুম। কৃষক-কৃষাণিরা এখন আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার প্রতিটি হাওরে ধান আবাদের উপযুক্ত জমিতে চলছে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ততা। গত আমন মৌসুমের শুরুর দিকে আকস্মীক বন্যায় বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এবার কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ায় এ মৌসুমে বুকভরা আশা নিয়ে দিনভর মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমন মৌসুমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার ৪শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের শেষ সময়ে এসে এখানে একসাথে কখন রোদ আবার কখনো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষাবাদে। কেউবা জমি তৈরি করছেন, কেউবা আবার বীজতলা থেকে বীজ তোলছেন, কেউবা বীজতলার চারা পরিচর্চায় ব্যস্ত রয়েছেন, কেউবা আবার উৎসবমুখর পরিবেশে জমিতে করছেন ধানের চারা রোপণ। দেখা মিলেছে দলবেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের চারা তুলা ও রোপণের চিত্রও। কৃষকরা জানিয়েছেন- চলতি বছর আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও শ্রাবণের শেষ সময়ে এসে হঠাৎ করে রোদের প্রথরতা বৃদ্ধি আর বৃষ্টি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা জমিতে পানি ধরে রাখা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। অন্যান্য বছর জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও এবার প্রখর রোদে জমি থেকে দ্রুত পানি নামতে শুরু করায় তাড়াতাড়ি করে আবাদ সারতেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমে সকলেই। আগামী দু’সপ্তাহ বা তারও একটু বেশি সময়ের মধ্যেই এই উপজেলার আমন চাষাবাদ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সিংচাপইড় ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামের কৃষক ফজর আলী বলেন, হঠাৎ করে রোদের প্রথরতা বৃদ্ধি পাওয়া সেই সাথে বৃষ্টি স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় জমি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এজন্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একসাথে ১১ কেয়ার (বিঘা) জমি হালচাষ করে প্রস্তুত করে আবাদ করতে হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ করে জমি থেকে পানি নেমে যাওয়াতে তার মতো করে প্রায় সকলেই একসাথে চাষাবাদ আর চারা রোপনে নেমেছেন। ফলে এখানে পূর্বের তুলনায় মজুরি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে কেয়ার (বিঘা) প্রতি ৬০০-৬৫০ টাকা হলেও এখন প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান- আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার শঙ্কা থাকায় চাষাবাদে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা ধীরতা দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও চাষাবাদ শেষ হবে। তিনি আরো জানান, এবার আমান ধানের বা¤পার ফলনে তারা বিশেষ কিছু কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ বৎসর আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি না হলে আমন ধানের বা¤পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি 70 বার পঠিত
advertise