|

মহাসড়ক যানজটমুক্ত করতে গোবিন্দগঞ্জে ৩শতাধিক অবৈধ দোকানপাঠ উচ্ছেদ

সুরমা ভিউ।। মহাসড়ক যানজটমুক্ত করতে গোবিন্দগঞ্জে
৩শতাধিক অবৈধ দোকানপাঠ উচ্ছেদ
ছাতকে মহাসড়ক যানজট মুক্ত করার লক্ষ্যে সড়কের দু’পার্শে দোকানপাঠ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ মহা সড়কের গোবিন্দগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) দুলন মিয়া। গোবিন্দগঞ্জ নতূনবাজারের মুখ থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দু’পার্শে এবং রহমতুননেছা মার্কেটের সামন, রিলেশন মার্কেটের সামন, আনছার মার্কেটের সামন ও ইতি টেলিকমের সামনের প্রায় ৩শতাধিক দোকানপাঠ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসময় হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুনাদির আলম চৌধুরি, হাইওয়ে শেরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বিমল চন্দ্র ভৌমিক, জয়কলস হাইওয়ের ইনচার্জ এসআই রুনু মিয়া, ছাতক থানার ওসি অপারেশন কাজি গোলাম মোস্তফা, ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম, এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই আনোয়ার হোসেন, এসআই অরুপ সাগর, জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের এএসআই শরিফ মাহমুদসহ থানা ও হাইওয়ে পুলিশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের খবর পেয়ে ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরি বকুল উচ্ছেদ হওয়া দোকান গুলো পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজারের মুখ থেকে শুরু হয়ে কলেজ গেইট এলাকা পর্যন্ত সড়কের দু’পার্শে ও বিভিন্ন মার্কেটের সামনে সরকারি জায়গার উপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দোকানপাঠ গড়ে উঠেছে। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকানপাঠ তৈরি করে ভাড়া দিয়ে ওই দখলকারি ব্যবসায়িরা তাদের ব্যক্তি স্বার্থে প্রতিদিন আদায় করছেন ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। সড়কের দু’পার্শে পান-সিগারেট ব্যবসায়ি, ফল ব্যবসায়ি, পান-সুপারির ব্যবসায়ি, শুটকির দোকান, মোরগ ব্যবসায়ি, ডিমের দোকান, মাংসের দোকান, কলার দোকান, খামার, ছাতা মেরামতকারিসহ জুতা সেলাইকারিদের কাছ থেকেও আদায় করে নিচ্ছে এসব টাকা। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের কারণে সড়কের দু’পার্শে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং পথচারিদের পথ চলতে সীমাহিন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি ইমা-লেগুনা ও সিএনজি-অটোরিকশা সরকারি জায়গাতে ভাড়ায় যত্রতত্র ভাবে রাস্তার দু’পার্শে রাখার কারণে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকত।

এসব কারণেই সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ি সমিতি, বিভিন্ন শ্রেনি পেশার লোকজনের সাথে পুলিশ প্রশাসন একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকে সড়কের দু’পার্শে সকল অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেয়ার আহবান জানানো হয়। অবশেষে রোববার বেলা ২টায় হাইওয়ে, জেলা ও থানা পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ সরজমিনে প্রত্যেক ব্যবসায়িদের নির্দেশ দিলে ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে নেয়া শুরু করেন। নিজেদের উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে ১৩আগষ্ট ২০১৮ সোমবার ভল্ডেজার দিয়ে সকল অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে এমন ঘোষনা দিলে দোকানের মালামাল বেশি ক্ষয় ক্ষতি হবে এমন ভয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে মালামাল ও দোকান ঘর সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) দুলন মিয়া বলেন, সড়কে যানজটমুক্ত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের পূর্নবাসনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জায়গা থাকলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এটির একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ১২আগষ্ট রাত ৮ ঘটিকায় মাইকিং করে গোবিন্দগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের এক সভার আহবান করা হয়। রহমতুননেছা মার্কেটের সামনে সভা আহবানের নাম ধরলেও কোন সভা বা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ব্যবসায়িরা জানান, কোন প্রকার নোটিশ, মাইকিং না করেই এবং পূনর্বাসনের জায়গা না দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ করায় তারা এখন পথে বসা ছাড়া দু’চোখে আর কিছুই দেখছেন না। এক সপ্তাহ পরে ঈদুল আজহা। এ ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই ব্যাংক, বিভিন্ন সংস্থা, সমিতি ও দাদন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে টাকা এনে দোকানে মালামাল তুলেছেন। এসব মালামাল বিক্রি করা না হলে তারা কিভাবে ঝৃন পরিশোধ করবেন এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন অসহায় এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা।

সংবাদটি 240 বার পঠিত
advertise