|

উনারা মন্ত্রী হতে ষড়যন্ত্র করছেন

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যারা নির্বাচন আসলেই তৎপর শুরু করে। এই সমস্ত সুবিধাবাদী নেতারা নির্বাচনের সময় জোট ও ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করে। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া নয়। লক্ষ্য হচ্ছে, একটি জঠিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বানচাল করা। যাতে কোন একটা সরকার গঠন করা যায়। তাহলেই উনারা সেই সরকারের মন্ত্রী হতে পারবেন। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা আজ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

বুধবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রচার পত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা ছিল বিস্ময়কর উন্নয়ন। এটা শুধু দেশের জনগণ নয়, বিশ্বের মানুষও বলছে। দেশের অধিকাংশ উপজেলাতেই শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। এই সফলতা সম্ভব হয়েছে এক মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তার দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতার কারনে। এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কার বিজয়ের বিকল্প নেই।

প্রতিটি দেশেই সরকারের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন জনগণ। কিন্তু আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য। আমাদের দেশে নির্বাচন আসলে শুরু হয়, নানা মুখী চক্রান্ত। যারা ক্ষমতা থেকে দেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা নিতে পারে নাই। দেশের মধ্যে জঙ্গিবাদ উৎপাত ঘটিয়ে দেশকে সন্ত্রাসবাদী বানিয়ে ছিল সেই শক্তি এখনও তৎপর। নির্বাচন আসলেই তাদের তৎপর শুরু হয়ে যায়।

বিএনপিকে একটি বড় দল স্বীকার করে হানিফ বলেন, তাদের কমকান্ড সব সময়ই জনগণের বিরুদ্ধে যায়। তাদের যে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী থেকেও এতিমের টাকার লোভ সামলাতে না পেরে তা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন। বিএনপি বলে থাকে, মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো যায়। কিন্তু মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রমাণ করে বিচারক কার্য শেষ করে তাকে দন্ড দেওয়া যায় না।

বিএনপি সাত দফা দাবি পেশ করেছেন। আমরা পরিস্কার ভাবেই বলেছি, আপনাদের ৭দফা দাবির বেশি ভাগই হচ্ছে অসাংবিধানিক। সংবিধান বর্হিভূত। আবার কিছু আছে আইন বর্হিভূত। তারা বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। তফসিল ঘোষণা আগে ও পরেও জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ দু’টা খোলা আছে। আইনি প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া।

বিএনপিকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনাদের প্রতি কত মানুষের সমর্থন আছে। তা আগামী নির্বাচনে প্রমাণিত হবে। আপনারা ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের চেয়ে আত্মঘাতিক সিদ্ধান্ত ছিলো, নির্বাচনকে যে কোন ভাবে প্রতিহত করা। জাতি আশা করে, আপনারা এই ধরণের ভুল আবার পূর্ণরাবৃত্তি করবেন না।

‘বিএনপির কোন কোন নেতা বলছেন দাবি আদায় না হলে নির্বাচন হতে দিবে না।’ এমন উক্তির মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করে বলবো, এই ধরণের হুমকী আওয়ামী লীগকে দিয়েন না। আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবে না। দেশের শান্তি নষ্ট করে আবারও ২০১৪ সালের মতো রাজপথে সেই অশুভ তৎপরতা চালাতে চান তাহলে সেই ফল শুভ হবে না। বাংলাদেশের জনগণ সেই সমস্ত অশুভ তৎপরতাকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত আছে। অসাংবিধানিক দাবি না রেখে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মাঠে নামুন। আগামী নির্বাচনে জনগণ ঠিক করে দিবে উন্নয়ন চায় নাকি সন্ত্রাস চায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত সাংগঠনিক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।

সংবাদটি 26 বার পঠিত
advertise