|

ছেলে হত্যার বিচার পেতে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করল ১২ সদস্যের মুসলিম পরিবার!

ছেলে হত্যার বিচার পেতে ১২ সদস্যের একটি মুসলিম পরিবার ধর্ম বদল করেছেন। হলফনামার মাধ্যমে মুসলিম ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে অসহায় পরিবারটি।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপতের বরারখা জেলায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। খবর আনন্দবাজার।

নিজের ছেলে হত্যার সুবিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু, কোনো ধরনে প্রতিকার পাননি। কেন-ই বা ছেলে হত্যার বিচার পাচ্ছেন না? এদিকে পুলিশ তার ছেলের হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইছে? এ রকম বিভিন্ন প্রশ্ন কুড়ে খাচ্ছিল আখতার আলিকে!

শেষমেশ কোনো উপায় না দেখে নিজ ধর্ম বিসর্জন দিয়ে মুসলমান থেকে হিন্দু হলেন ৬৮ বছর বয়সী আখতার আলি ও তার পরিবার।

বাগপতের বরারখা জেলার বাসিন্দা আখতার আলি। মাসখানেক আগে তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে গুলহাসানের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

নিহত গুলহাসানের পরিবারের অভিযোগ, ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগও করেন আখতার। কিন্তু, পুলিশ খুনের অভিযোগ না নিয়ে স্রেফ আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মামলা দায়ের করে। এতে খুবই হতাশ হয়েছিলেন আখতার। শেষমেশ ছেলের হত্যার সুবিচার পেতে আখতার আলি নিজে, তিন ছেলে ও তাদের স্ত্রী এবং দুই নাতি ও চার নাতনি সহ মোট ১২ জনকে নিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাগপতের জেলা প্রশাসক ঋষিরেন্দ্র কুমার জানান, পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে আখতার ও তার পরিবার নিজ ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান থেকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের যুব হিন্দু বাহিনী (ভারত)-র প্রধান সৌখেন্দ্র খোখার বলেন, হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করেছেন আখতার ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত মঙ্গলবার রীতিমতো যজ্ঞ করে ধর্ম পরিবর্তনের আয়োজন করে যুব হিন্দু বাহিনী।

সৌখেন্দ্র খোখার আরও বলেন, ছেলের খুন পুলিশ আত্মহত্যা বলে মামলা দায়ের করায় আখতার আলি প্রচণ্ড হতাশ হয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, নিজের ধর্মের লোকজনদের কাছে ছেলে হত্যার সাহায্যের আশায় ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, স্বধর্মের লোকদের কাছ থেকেও শূন্য হাতে ফিরতে হয় তাকে। বিপদের দিনে কেউই তার পাশে এসে দাঁড়াতে চাননি।

তিনি আরও বলেন, একদিকে ছেলের খুনের প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা, অন্যদিকে স্বধর্শের লোকদের আচরণ এই দুই কারণে আখতার প্রচণ্ড অসহায় হয়ে পড়েন। আর এই কারণেই ধর্ম পরিবর্তন করেন তিনি ও তার পরিবার।

মুসলিম ধর্ম পরিবর্তনের পর আখতারের নাম এখন ধরম সিং রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই বাগপতের নেভাদা গ্রামে আমার ২৮ বছরের ছেলে গুলহাসানকে হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা দেখাতে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। আমি বহুবার করে পুলিশের কাছে গেছি, এছাড়া আমার ধর্মের লোকজনের কাছে ছেলের পক্ষে সাক্ষি দেওয়ার অনুরোধ করেছি। দুঃখের বিষয় আমাকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানান তিনি।

আখতার (পূর্বের নাম) ওরফে ধরম সিং আরও বলেন, নিজ ধর্মের মানুষের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য তো পাইনি বরং একটি মুসলিম পঞ্চায়েতে আমাদের সাহায্যের পরিবর্তে অপমান করা হয়। নিজ সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়ায় আমরা ধর্ম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা এখন সুবিচার পাওয়ার আশা করছি।

এ ঘটনা প্রকাশ পেতেই ওই এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে।

যদিও বাগপতের জেলা শাসক ঋষিরেন্দ্র কুমার বলেছেন, জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

সংবাদটি 85 বার পঠিত
advertise