|

ইসলামী সংগীত জগতে পরচিতি নাম মাশুল নাঈম

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি।।

সলামী সংগীত জগতে অতি পরিচিত নাম মাশুক আহমদ নাঈম। তরুণ প্রতিভাবান এই শিল্পী অল্প সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের অবন্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। একাধারে সংগীত রচনা, সুর ও কণ্ঠ দিয়ে ইতিমধ্যে তিনি শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বাজারে রয়েছে তার একাধিক ইসলামী সংগীতের এ্যালবাম। ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি জাগরণী, দেশাত্ববোধক ও আধ্যাত্মিক গানও বেজে ওঠে তার দরদি কণ্ঠে। গজল সন্ধ্যা, ইসলামী জলসা, ও বিভিন্ন সভা-সেমিনার প্রাণবন্ত করে তুলতে মাশুকের জুড়ি নেই। ক্লান্তিহীন ভাবে তিনি অব্যাহত রেখেছেন তার এ সংগীত সাধনা। নিজের জায়গা ভাগিয়ে নেয়ার পর তার সংগীতের উস্তাদদের তৈরী প্রতিষ্ঠান ‘‘প্রত্যাশা শিল্পী গোষ্ঠী’’ নামের সংগীত চর্চার পাঠশালার হাল ধরেন তিনি। বর্তমানে এম.এ অধ্যয়ন ও শিক্ষকতার পাশাপাশি এ পাঠশালার ব্যানারে সংগীত পিপাসুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন অদ্যবধি।মাশুক আহমদ নাঈমের জন্ম ১৯৯৩ সালের ৭ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ও মাতা পরকাশী বিবি। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। নিজ এলাকার টিলাগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর পর তিনি লেখা-পড়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। ভর্তি হন উপজেলার কালিগঞ্জের আল-ইর্শাদ লতিফিয়া দাখিল মাদরাসায়। প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন শিক্ষক, সংগীত শিল্পী মাহফুজুল ইসলাম নমির’র হাত ধরেই সংগীত চর্চার হাতেখড়ি তার। শুরুতেই তিনি ইসলামী সংগীত পরিবেশনায় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথমে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের রচিত কথা ও উস্তাদ মাহফুজুল ইসলাম নমির’র সুরে কণ্ঠ দেন তিনি। বাজারে আসে ‘শাহে মদীনা’ নামে তার ইসলামী সংগীতের প্রথম ভিডিও এ্যালবাম। এ্যালবামটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ধারাবাহিক ভাবে শ্রোতাদের উপহার দেন ‘গুলজারে মদীনা’ ও ‘ইশকের দরিয়া’ নামের আরো দু’টি এ্যালবাম। এক সময় না’তের রাজা খ্যাত কবি রফীকুল ইসলাম মুবীন’র হাত ধরে তিনি সংগীত লেখায় মনোযোগ দেন। পরে উস্তাদদের অনুপ্রেরণায় নিজের কথা, সুর ও কন্ঠে একে একে পাঁচটি এ্যালবাম করে তিনি অল্প সময়ে ইসলামী সংগীত শিল্পী হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন।বর্তমানে তিনি গীতিকার কামরুল আশিকী রচিত একটি ইসলামী সংগীত এ্যালবামে সুর করছেন। শীঘ্রই এ এ্যালবাম বাজারে পাওয়া যাবে তিনি আশাবাদী।মাশুক আহমদ নাঈমের ভাষ্য, আমার মা’র বড়ই ইচ্ছে ছিলো আমাদের ভাইদের মধ্যে কেউ আলেম হবে। প্রথমে বড় ভাইকে মাদরাসায় দেয়া হলেও অভাব-অনটনের কারণে তিনি আর এগুতে পারেন নি। মায়ের স্বপ্ন পূরণে পরে আমি মাদরাসায় ভর্তি হই। অনেক কষ্টে জীবনের এ ক‘টা পথ পাড়ি দিয়ে এ পর্যন্ত আসা। সংগীত সাধনা করতে গিয়ে মানুষের তিরস্কার ও পুরস্কার দু’টোই পেয়েছি। এগুলোই আমার পথ চলার পাথেয়। আমি ছাত্র, এখনও শিখছি। আমার কণ্ঠে যেন সংগীত ধরে রাখতে পারি, সেই কামনা খোদার দরবারে।

সংবাদটি 103 বার পঠিত
advertise