|

ইতিহাসে জগদল

 হেলাল আহমেদঃ হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন জগদল। ( জ-জনগণ নন্দিত, গ-গণতান্ত্রিক মনোভাব, দ-দলীয় নিরপেক্ষতা, ল-লড়াকু সৈনিক) কালপরিক্রমায় আজ জগদল ইউনিয়ন শিক্ষা সংস্ক্রৃতি,ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বকীয়তা আজো সমুজ্বল। জগদল ইউনিয়ন সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ।

এর আয়তন ৫৭ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২৮,৯৩৯ জন। ব্রিটিশ শাসনামলের আনুমানিক ১৯৪৩ সালে প্রথম জগদল গ্রামের অধীনে বর্তমান ৩৯টি গ্রাম নিয়ে জগদল ইউনিয়ন গঠিত হয়।

ওই সময়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে “গ্রামসরকার” বলা হত। ১৯৫০ সালে পাকিস্তান শাসনামলে গ্রামসরকারের পদকে “ইউপি চেয়ারম্যান” পদবী ঘোষণা করা হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে আব্দুল হক, দানিছ মিয়া, গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেন।

” ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান মহকুমা জুরি বোর্ডের সদস্য “মো. আব্দুল হক” প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান মনোনীত হন এবং তিনিই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পরবর্তী সময়ে মাহতাবুর রহমান, আ. রাজ্জাক (৩য় বার নির্বাচিত), মোখলেচুর রহমান লাল মিয়া, কবির মিয়া, আবু ইয়াহিয়া খায়রুজ্জামান, আব্দুছ ছালাম,বর্তমানে শিবলী আহমেদ বেগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জগদল ইউনিয়নের নাম নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে যে, “জগদ্দল” নামক অত্যান্ত দামী পাথরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় জগদল। “ভাষা ও সংস্কৃতিসম্পাদনা” হাওরবেষ্টিত ভাটি অঞ্চলের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য এখানে বিদ্যমান।

এই জনপদের অধিকাংশ মানুষ সুদীর্ঘ কাল ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তাই এদের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতি কৃষির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানকার মানুষের উচ্চারিত ভাষায়সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব বেশি। শিক্ষিত সমাজ সাধারণত চলিতরীতিতে কথা বলে। বিভিন্ন ধরনের গানের আয়োজন বিভিন্ন উপলক্ষ্যে হয়ে থাকে। এলাকায়, পাড়ায় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামূলক নাটকের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

পুরাতন সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় পালিত হয়ে থাকে। অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আয়োজিত খেলাধুলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাডুডু, পাড়ায় পাড়ায় দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লা ছোট ইত্যাদি। আধুনিক সংস্করণের মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবল অন্যতম।

যেসব সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা জগদলে কাজ করছে সেগুলো হলো: ১।শফিকুন নূর বাউল শিল্পীগোষ্ঠী, ২।সৃজনী নাট্য সংঘটন ৩।জগদল ফুটবল ও ক্রিকেট দল ৪।আঃ হক স্মৃতি পরিষদ, ৫।জলি সমাজ কল্যান সংস্থা। “দর্শনীয় স্থানসমূহসম্পাদনা” জগদলের দর্শনীয় স্থানসমূহ হল – “বৃটিশ আমলে তৈরি করা মোড়ল বাড়ীর হাজী তৈয়ব উল্লার পাকা দালান ঘর” তৎকালীন সময়ে প্রতিপ্যাক সিমেন্টের দাম ছিল ২.৫০( আড়াই টাকা)।

জগদল ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল,জগদল মহাবিদ্যালয়,  জগদল বাজার, জগদল ঈদগাহ, জগদল ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, জগদল বড় মসজিদ, মাঝপাড়া পয়েন্ট, চাপতি হাওর ইত্যাদি।

“ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক উপাত্তসম্পাদনা” “হাট-বাজারসম্পাদনা” জগদল ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য বাজারগুলো হল- জগদল বাজার, শাহজালাল বাজার, কলিয়ারকাপন বাজার, রতনগঞ্জ বাজার,হুসেন পুর বাজার, ছয়হারা নগদিপুর বাজার ও বড় নগদিপুর বসুন্ধরা বাজার। “নদ-নদী ও হাওরসম্পাদনা” জগদল ইউনিয়নের পশ্চিমে চাপতি হাওর ও এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে হেরাচামতি নদী এবং পূর্বদিকে বয়ে গেছে নলুয়ার হাওর।

সংবাদটি 150 বার পঠিত
advertise