|

টাইগারদের বিধ্বস্ত করে বড় লিড জিম্বাবুয়ের

টপ অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও আশা ছিল হয়তো মিডল অর্ডারের কল্যাণে ঘুরে দাঁড়াবে টাইগাররা। কিন্তু তাও হলনা সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন। মুশফিক, আরিফুল ও মিরাজদের ছোট ছোট জুটিগুলো কেবল রানের ব্যবধানটাই কমাল। তারপরও প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অল আউট হয়ে লজ্জার উদাহরণই তৈরী করল বাংলাদেশ।

এর ফলে ইনিংসশেষে ১৩৯ রানের বিশাল লিড পায় মাসাকাদজার দল। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান এসেছে আরিফুলের ব্যাট থেকে। এছাড়া মুশফিক ৩১ ও মিরাজ ২১ রান করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে চাতারা ও সিকান্দার রাজা ৩টি করে উইকেট লাভ করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে মাত্র ১ রান করার পর শেষ হয় দ্বিতীয় খেলা। এতে করে ১৪০ রানের লিড নিয়ে কাল ব্যাট করবে সফরকারীরা।

এর আগে বাংলাদেশের এক পেসার নিয়ে খেলার কৌশলকে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে জিম্বাবুয়ে। দুই পেসার চাতার ও জার্ভিসের অসাধরণ স্পেলে শুরুতেই চাপে পড়া টাইগাররা একবারও দাঁড়াতে পারেনি সোজা হয়ে। পিচ থেকে দারুণভাবে সুবিধা আদায় করে নেয় মাসাকাদজার বোলাররা। জিম্বাবুয়ের বোলিং তোপে মাত্র ১৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর মুমিনুলকে নিয়ে মুশফিক চেষ্টা করেছিলেন একটা জুড়ি গড়ার। কিন্তু সিকান্দার রাজার বলে ১১ রান করে মুমিনুল বিদায় নিলে, বড় ধরণের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা।

অভিজ্ঞ মুশফিক ৩১ রান করে জার্ভিসের শিকার হন। মেহেদি হাসান মিরাজও সুবিধা করতে পারেননি। বড় ইনিংস প্রত্যাশিত ছিল দলের প্রয়োজনে। মিরাজের ৩৩ বলে ২১ রানের ইনিংসটি তাই কাজে আসেনি। একপ্রান্তে আরিফুল লড়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত। তাকে সঙ্গ দেবার মত কেউ ছিলনা ক্রিজে। টেইল এন্ডারদের যাওয়া আসার মিছিলে তাই ১৪৩ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের স্কোর।

প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৮২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৮ রানের মাথায় পড়ে প্রথম উইকেট। ওয়ানডে সিরিজে রানের বন্যা বইয়ে দেয়া ওপেনার ইমরুল কায়েস বিদায় নেন মাত্র ৫ রান করে। চাতারার দারুণ একটি আউট সুইং ডেলিভারিতে প্লেইড অন হন তিনি।

এরপর বিদায় নেন লিটন দাস। ৫ রান করা লিটনকে তুলে নিয়েছেন জার্ভিস। দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপ সামলাতে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চাতারার সুইংয়ে তিনিও ফিরলেন কট বিহাইন্ড হয়ে। দলকে খাদ থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর উপর। তিনিও পারেননি স্থির হতে। রানের খাতা খোলার আগেই হন চাতারার শিকার। আত্মহত্যার মিছিলে মুমিনুল যোগ দেন। মাত্র ৪৯ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এর আগে সকালে টেইল এন্ডারদের মুড়িয়ে দিয়ে দ্রুত জিম্বাবুয়েকে বেঁধে ফেলার কাজটা এগিয়ে নিয়েছেন তাইজুল। শেষ ৫ উইকেটের ৪টিই তুলে নিয়েছেন এই লেফট আর্ম স্পিনার। ১০৮ রানের বিনিময়ে সবমিলিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া নাজমুল ইসলাম অপু ৪৯ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। দুই স্পিনারের কল্যাণে ২৮২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

সংবাদটি 8 বার পঠিত
advertise