|

মধ্যরাতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নবদম্পতির ঘরে উঁকি যুবকের! অতঃপর…

স্বামী-স্ত্রী রাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, সেই মুহূর্তে যদি কেউ তা আড়ি পেতে দেখেন এর থেকে ন্যাক্কাজনক কি হতে পারে।

তাহলে ঘটনাটি খুলে বলা যাক- নবদম্পতি। প্রত্যেকরাতে ঘনিষ্ট মুহূর্তে শোয়ার ঘরের জানালায় তাকালেই দেখতে পান আবছা মুখ, কখনও আবার শুধুই ছাঁয়া। একদিন তো এমনও হয়েছে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে নবধূকে ছুঁয়ে দেখারও চেষ্টা চালিয়েছিল সেই ছায়া। এ ঘটনায় প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে ওই দম্পতি উচিত শিক্ষা দিতে এক ফন্দিও আঁটেন। যে জানালায় আবছা মুখ, আর ছাঁয়া দেখতেন তাতে জড়িয়ে দেয় বিদ্যুতের তার। জানালা দিয়ে কেউ উঁকি দিতে এলেই বিপত্তি ঘটবে।

কিন্তু, এটার পরিণতি যে এতো ভয়াবহ হতে পার তা বুঝতে পারেনি ওই দম্পতি। বরাবরের মতো ঘটনার দিনও উঁকি দিতে গিয়ে বিদ্যুতের শক খেয়ে ছাঁয়ার সেই যুবকের মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনাটি বুঝতে পেরে ওই যুবকের মরদেহ পাশের রাস্তায় ফেলে আসে দম্পতি জুটি।

তবে ওই নবদম্পতির শেষ রক্ষা হয়নি। এই ঘটনার আড়াই মাস পর অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট ভোরে একটি রাস্তার পাশ থেকে ভোলা বৈরাগ্য (৩২) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু সর্দার (নববধূর স্বামী), বিধান সর্দার ও খুদু সেন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের স্থানীয় বাসিন্দা রাজু সর্দারের নতুন বিয়ে হয়েছিল। তার ঘরের জানালায় কোনো পাল্লা ছিল না। রাতে কেউ জানালা দিয়ে ঘরে উঁকি ঝুঁকি মারতেন। এমনকি নববধূকে স্পর্শ করারও চেষ্টা করতেন। ওই ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে জানালার শিকে বিদ্যুৎবাহী তার জড়িয়ে রাখা হয়েছিল।

জানা যায়, রাজু ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি হওয়ায় তার পক্ষে জানালা বিদ্যুৎবাহী তার লাগানোর বিষয়টি সহজ হয়েছিল। ঘটনার দিন রাতে জানালা দিয়ে উঁকি মারতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ছাঁয়ার (যুবক) ভোলা। এ ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজু ও তার সঙ্গীরা মিলে মরদেহ একটি রাস্তার ধারে ফেলে আসেন।

পরিশেষে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত ওই দম্পতি।

সংবাদটি 72 বার পঠিত
advertise