|

ইউরোপ যেতে পথেই পুরো টাকা নিয়ে নেয় কালাম ও হুমায়ুন দালাল

বদরুল বিন আফরোজ। ।

অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে সাতটি রুট দালালরা ব্যবহার করে থাকে। এর সবগুলোই ব্যবহার করা হয় বর্তমান মরক্কো কিংবা তুরস্ক থেকে ইউরোপ প্রবেশের জন্য। এ সাত রুটের মধ্যে ‘জনপ্রিয়’কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরের রুট। এটি ব্যবহার করে মরক্কো থেকে স্পেন যাওয়া নিরাপদ মনে করে অনিয়মিত অভিবাসীরা। তাই দালালের মিষ্টি মিষ্টি কথায় প্রভাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চলে যান মরক্কো কিংবা তুরস্ক। সেখান থেকে শুরু হয় ইউরোপ যাওয়ার মূল পর্ব। তবে এর আগেই কয়েক ধাপে শোধ করতে হয় টাকা। এ টাকার পরিমাণ চার থেকে আট লাখ টাকা। ইউরোপ যেতে মোট খরচ হিসেবে চাওয়া হয় ১২-১৪ লাখ টাকা। সেই টাকা আদায় করা হয় এমনকি শারীরিক নির্যাতন করেও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এপ্রিলের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর — এই সাত মাস সমুদ্রপথে স্পেন যাওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ এসময় সাগর কিছুটা শান্ত থাকে এবং ছোট ছোট প্লাষ্টিক নৌযান দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে দালাল চক্র।সাগরে বোট ডোবে সাগরে অনেকেই মারা যাচ্ছেন, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেলেও লাশ পাওয়া যায়না।

মরক্কো উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দূরে স্পেন। মানবপাচারের ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর পাচার হওয়ার তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে বাংলাদেশি দুই দালাল কালাম ও হুমায়ুন।মানুষদেরকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বৈধভাবে ভিসা দিয়ে ইউরোপ পাঠাবে বলে দেশ থেকে আনা হয়।

বাংলাদেশিদের খুব সহজে আটক করে মুক্তিপণ আদায় করা যায়। তাই আলজেরিয়ার ও মরক্কো মানবপাচারকারী চক্র বেছে নেয় বাংলাদেশিদের। তাদের সঙ্গে আঁতাত করে কমিশন নেয় বাংলাদেশি এই দুই দালাল।

(১) ৬২ নিউ খাদিতলা ফরিদাবাদ,খাদিমতলা ঢাকা,মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে,আবুল কালা আজাদ (৪৫)

(২)নারসিংন্দী, রায়পুরা,মুসাপুর গ্রামের মৃত বারিক মিয়ার ছেলে হুমায়ুন অরপে আলী (৪০)৷
সে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের নাম দিয়ে থাকে, (১) হুমায়ুন (২)আলী (৩) আহমদ(৪) পাসপোর্ট এ নাম রয়েছে ওয়াহাব মিয়া, মরক্কোতে হুমায়ুন অরপে আলী নামে পরিচিত ।
হুমায়ুন দালালের রুম থেকে ফোনে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক যুবক এসব তত্ত্বের কথা জানান।

বাংলাদেশ থেকে মরক্কো অনিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর সম্প্রতি এক গবেষণায় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে মরক্কো হয়ে স্পেন যাওয়ার মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এটি অনেক বেশি। এমনকি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেন যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তালিকায় ২০১৮ সালের মধ্যভাগে অবস্থান করছে। গবেষণায় আরও বলা হয়, ৯৬.৭ শতাংশ অভিবাসী কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরের রুট ব্যবহার করে মরক্কো উপকূল হয়ে স্পেন যায়।

অনেকেই জমি-গরু, স্ত্রীর গয়না বেচে সব টাকা দালালদের দেন বৈধভাবেই উরোপ যাওয়ার আশায়। যাত্রীদে স্পেন যাওয়ার উদ্দেশে প্রথমে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ইন্ডিয়া। এরপর আলজেরিয়া, সেখান থেকে মরক্কো। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও ছোট গাড়িতে করে পাহাড় পাড়ি দিয়ে, আবার কখনও বা ছোট্ট একটা কনটেইনারের ভেতর ঢুকে যেতে হয়েছে। আলজেরিয়া টুরিস্ট ভিসা নিয়ে গিয়ে এক মাসের বেশি থাকার সমস্যা হলেও দালাল যাত্রীদেরকে বলেছিল কোনও সমস্যা হবে না।এভাবে চার থেকে পাচ মাস পার করথে হয়েছে আলজেরিয়ার।

যাত্রীরা বলেন, ‘রাতের বেলায় পাহাড়ে হাঁটা লাগসে। সে কী পাহাড়, হাঁটতে হাঁটতে পায়ের চামড়া উঠে গেছে, হাত-পা কেটে রক্ত বের হয়ে সে কী অবস্থা! পাহারকি এক একটা ১০০ তালা সমান, এখনও হাতে পায়ে কাটা দাগ আছে। এছাড়া হাতুড়ির আঘাতে কালো হয়ে গেছে নখ। যাত্রীরা বলেন,একটা কার গাড়িতে করে ১০জন করে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে গেলো, সেখানে তিন দিন ছিলাম। এই কয়দিনে দিনে-রাতে একবেলা খাওয়া পেতাম, সেটাও ছিল শুকনা একটা অথবা দুইটা রুটি। ভয়ে একেকজন কুঁকড়ে যেতাম, কিন্তু কারও কিছু করার ছিল না।অনেক আবার পাহাড় থেকে পরে বা জঙ্গলে মারা যাচ্ছেন,তাদের লাশও জায়গায় পেলে আসা হয়।

সংবাদটি 285 বার পঠিত
advertise