|

মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক’র সাথে কি হয়েছিল পাবনায়!

মাহফুজুর রহমান জাবের – কুয়াকাটা ঃ

জনপ্রিয় আলোচক মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক [কুয়াকাটা হুজুর]। ওয়াজের ময়দানে যার দরদভরা কন্ঠের উপস্থাপনায় মানুষ আলাদাভাবে আল্লাহ ও তার রসুলের মুহাব্বাত বুকে লালন করে পথচলার সুযোগ খুঁজে পেয়েছে। বলা যায় ওয়াজের ময়দানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন কুয়াকাটার হুজুর।
একই পরিবারের তিন আপন সহোদর মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক, মাওলানা হাবীবুর রহমান মিছবাহ ও আমি মাওলানা মাহফুজুর রহমান জাবের। সময়ের সাথে সাথে মানুষের ব্যাপক চাহিদা মেটাতে দেশের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দৈনন্দিন সফর করে থাকি। যার সুবাদে, আগে শুনেছি সফরের কষ্টের ব্যাপারে আর এখন স্বচোক্ষে দেখছি।

আয়োজক কমিটি ভাবে, হুজুর মাত্র দেড়-দুইঘন্টা আলোচনা করে শান্তিতে বাসায় চলে যায়। ভেবে দেখা দরকার তাদের পেছনে দেড়-দুই ঘন্টা সময় দিতে গিয়ে ওয়ায়েজদের পুরো দিন জার্নি করতে হয়। আবার ওয়াজ শেষে সারারাত গাড়ীতেই নির্ঘুম পার করতে হয়।
আপনি দুদিন সফর করবেন তো তৃতীয় দিন আপনাকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে।

অনেক কষ্টকরে ক্লান্ত শরীরে একজন বক্তা মাহফিলে আসে। বুঝেও অধিকাংশ মাহফিল কমিটি তাদের সাথে জিম্মির মত আচরণ করে। এগুলো বেশি দেখা যায় পাবনা, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ এলাকায়।
যার ভুক্তভোগী আমি নিজেই। বিশেষ করে পাবনার জালসার ব্যাপারে অধিকাংশ বক্তাদেরই ক্ষোভ রয়েছে। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পাবনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় চলছে।

তাদের এহেন কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পাননি সময়ের আলোচিত আলেমেদ্বীন মাওলানা হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক ও। উল্লেখ্য ২৯/১১/১৮ ইং পাবনার চাটমোহর এলাকায় একটি মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বড় ভাই হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক সাহেব।
উনি হেলিকপ্টার সফর একধরণের বাধ্য হয়েই করে থাকেন। শিডিউল ফাঁকা নাই, এরপরেও মানুষের পিড়াপিড়ির কারণে বেশ কতগুলো শর্তের মাধ্যমে দিনের বেলা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রোগ্রাম দিয়ে থাকেন ।
শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম – হেলিকপ্টার খরচ ব্যাক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে। কোন মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের ফান্ড থেকে খরচ করা যাবেনা।

সব শর্ত মেনেই মাহফিল নিয়েছিল পাবনাবাসী।
কিন্তু যেই লাউ সেই কদু! জিম্মির মত আচরণ। বয়ানে দেয়ার কথা দুপুর দুইটায়। স্টেজে বসে আছেন ভাইজান। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু স্টেজের বিশেষ বক্তা মাইকের সাথে চুম্বক হয়ে আছে! ভাইজান বারবার কমিটিকে বলতেছিলেন ” ভাই হেলিকপ্টার ওয়েটিং চার্জ উঠতেছে দেরী না করলে ভাল হয়! আমাদের সন্ধার আগেই আবার ঢাকা ফিরতে হবে, প্রোগ্রামে যেতে হবে দেরী করলে আপনাদের সমস্যা আমারও সমস্যা ”

কে শুনে কার কথা! এরা এবার কালেকশন শুরু করেছে!!
হেলিকপ্টারের নির্ধারিত টাইম প্রায় শেষের পথে এমতাবস্থায় তারা ভাইজানকে স্টেজে দিল। তখন দশ মিনিটও বয়ান করার সময় নেই। তারপরেও মানুষের চাহিদা-ভালবাসার দিকে লক্ষ করে প্রায় পঞ্চাশ মিনিট ওভার টাইম বয়ান করেছেন। যা হেলিকপ্টার কর্তৃপক্ষ কখনো মেনে নেয়না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে এমতাবস্থায় কপ্টারকে যেকোনো মূল্যে উড়াল দিতে হবে, কারণ রাতে লোকাল হেলিকপ্টার চলতে পারেনা।

বয়ান থেকে নামতে না নামতেই কিছু কুচক্রী মহল নামধারী মাজারপুজারীরা ঝোপ বুঝে কোপ দিতে চাইলো! সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিল “হুজুর কেন কম বয়ান করলো” ব্যাস! শুরু হল হট্টগোল। সচেতন জনগণ ও প্রশাসন পরিবেশ কন্ট্রোলে এনে ভাইজানকে আগ্রাসী মাজারপন্থীদের থেকে নিরাপদে নিয়ে যান।

এর আগে রাত হতে দেখে হেলিকপ্টার তার গন্তব্যে চলে যায়। শেষমেশ পুলিশ-প্রশাসন পদ্মা এক্সপ্রেস – ট্রেনে টিকিট করে ভাইজানকে ঢাকা পাঠিয়ে দেন। তবে দুঃখের সাথে বলতে হয়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল আমাদের মিডিয়াগুলো পাবনাবাসী যা বুঝিয়েছে তারা তাই লিখেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
দ্বিতীয় পক্ষের জবানবন্দী না নিয়ে কিভাবে একটি মিডিয়া পরিস্থিতির পুরো উল্টোচিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরলো! এটা আমার বুঝে আসেনা।
এর তীব্র নিন্দা জানাই।

আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন – আমীন।

সংবাদটি 59 বার পঠিত
advertise