|

আদর্শ ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শফিক চৌধুরী

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় রাজনীতিতে যখন আদর্শ ও আনুগত্য বিসর্জনের হিড়িক চলছে। ক্ষমতার মোহে দল বদল যখন পোষাক বদলের মত রুপ ধারণ করেছে। যখন সময়ের তালে তাল মেলাচ্ছেন, সময়ের স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন দেশের অনেক পরিচিতমুখ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ঠিক সেই সময়েই স্রোতের উজানে দাড়িয়ে রাজনীতিতে দলীয় আদর্শ ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী।

এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। দু দুবার দলের স্বার্থে, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তার কট্টর সমালোচকের। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম. ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন তৎকালিন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী।

চলে আসেন রাজনীতির লাইমলাইটে। নির্দেশ পান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরার। দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের। পাঁচ বছর সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় ব্যাপক দৃশ্যমান উন্নয়ন করেন তিনি। এইসব এলাকার পাশাপাশি সিলেটের সর্বত্র সবসময় বিচরণ করে জনগণ ও নিজ দলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে জনপ্রিয়তা পান তৃণমূলে।

ভালবেসে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ২৪ঘন্টার রাজনীতিবীদ হিসেবে আখ্যা দেন। ফলশ্রুতিতে, অনায়াসেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তিনি। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় শফিক চৌধুরীর প্রায় নিশ্চিত জয়ে বাঁধা হয়ে দাড়ায় এরশাদের জাতীয়পার্টি। মহাজোটের সমর্থন পান জাতীয়পার্টি নেতা ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। দলের নির্দেশ ও দলীয় সভানেত্রীর প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান শফিক চৌধুরী।

তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন-অনেকে সেসময় এমন ধারণা পোষণ করলেও এসব তুড়ি মেরে উড়িয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি শুধু অবিচলই থাকেননি, সিলেট-২ আসনে জাতীয়পার্টি মনোনিত ও মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ইয়াহ্ইয়াকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বিজয়ও নিশ্চিত করেন মহাজোট প্রার্থীর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে নৌকার শীর্ষ দাবীদার ছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু মহাজোটের কারণে এবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এবারও মাথা পেতে নিয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত। এবারও সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

যদিও, তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা। তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন (একই সময়ে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারীরাও অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন)। বঞ্চনা ও হতাশার চাপাকান্না পরিলক্ষিত হয় সর্বত্র। তাকে নৌকা দেয়ার দাবীতে সরগরম হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও।

বিশেষ, করে তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এটি নজর কাড়ে সকলের। সাংবাদিক, শিক্ষকসহ রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। ২৮ নভেম্বর রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে মাত্র দুই লাইনের একটি স্ট্যাটাস পোস্ট দেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত। জীবনের বাকি সময়টুকু আপনাদের ভালবাসায় বেঁচে থাকতে চাই।’ এই এতটুকু কথাই প্রকাশ প্রায় দল ও দলীয় সভানেত্রীর প্রতি তার আনুগত্যের সরল বহিঃপ্রকাশ।

আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীকে নির্লোভ, নিরহংকারী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মুহিবুর রহমান সুইট বলেন, জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্যে বিলেতের বিলাসী জীবন ফেলে এসে মাঠেঘাটে ২৪ ঘন্টা ব্যয় করছেন। তিনি সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় সিলেট-২ আসনের তিন উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

বিশ্বনাথ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলতাব হোসেন বলেন, আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেটের রাজনীতিতে একটি নিয়ামক। তার মত দ্বিতীয়জন কেউ নেই। বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান বলেন, একজন অসাধারণ ত্যাগী রাজনীতিবীদ আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বারবার এই প্রমাণ দিয়েছেন। তার মত সৎ, নির্লোভ ও সহজসরল জীবনযাপনের অধিকারী নেতাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।

সংবাদটি 165 বার পঠিত
advertise