পতাকার ফেরিওয়ালা বকুল মিয়া

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: বকুল মিয়ার (৩৫) বাড়ি মাদারীপুরে। পেশায় দিনমজুর। বর্তমানে বসবাস করছেন সিলেট শহরের পরিবারের সঙ্গে। বিজয়ের মাস এলেই নতুন স্বপ্ন দেখেন তিনি। তাই দিনমজুরের কাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা হাতে।

পতাকা তুলে দেন স্বাধীন দেশের নতুন প্রজন্মের হাতে হাতে। বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করা তাঁর পেশা। সারা দিন পায়ে হেঁটে শহর ও উপজেলা এলাকায় পতাকা বিক্রি করেন তিনি।

আজ শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বাসিয়া ব্রিজের সামনে কথা হয় পতাকা হাতে বকুল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি এ পেশায় জড়িত। বর্তমানে দিনমজুরের কাজ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ বছরও ১ ডিসেম্বর থেকে তিনি বিক্রি শুরু করেছেন পতাকা, চলবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

তবে এ বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী মাস হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। তারপরও কিছু কিছু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে। সংসারে পাঁচজনের খাবারের খরচও তাঁকে উপার্জন করতে হয়। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পতাকা হাতে তাঁর বিশ্বনাথে আসা। অধিকাংশ পতাকা নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়ে ও গাড়িতে বিক্রি করে উপার্জিত টাকা নিয়ে বাসায় ফিরে যাবেন। সেই টাকা সংসারে খরচ করবেন বলে জানান তিনি।

বকুল মিয়া সাংবাদিক কে জানান, প্রাণের পতাকা কাঁধে নিয়ে সিলেট শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বাসায় ফিরে যাবেন। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে তিনি আবার তার আগের কাজে নেমে পড়বেন। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতার মাস মার্চ আসলেই বেরিয়ে পড়বেন আবার পতাকা হাতে পথে প্রান্তের।