|

গজল সন্ধ্যার চেয়ে ওয়াজ মাহফিল ভালো- বললেন বদরুল

বদরুল বিন আফরোজ বলেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চাইতে ওয়াজ মাহফিল ভালো ওয়াজ মাহফিলের অনুষ্ঠানের মুসল্লী এবং মাহফিল কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে ঐদিন ৮০% মানুষ নামাজ পড়বে আল্লাহর দিন শিখা হবে।

বাংলাদেশে ইসলামিক সংস্কৃতির নামে চলছে অপসংস্কৃতি!!

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নামাজের সময় দেয়া হচ্ছে বিরতি বিরতির সময় আয়োজক ও শিল্পীরা স্টেজের পিছনে গল্প আর আড্ডায় চলে যাচ্ছে বিরতির সময় অনুষ্ঠানের গোটাকয়েক শ্রোতা ছাড়া কেউই পড়ছেন না নামাজ! অনুষ্ঠান শুরু চলছে প্রোগ্রাম পড়া হচ্ছে না নামাজ, এরই নাম কি ইসলামিক সুস্থ সংস্কৃতি।

আধুনিকতা ও প্রগতির নামে অনেক অগ্রহনযোগ্য জিনিষ ঢুকে গেছে আমাদের তরুণ আলেম ও সংস্কৃতিকর্মীদের জীবনে। আমরা অভিভাবকরা দেখেও না দেখার ভান করছি।

দেশের ভাবিষ্যত হলো বাংলার তরুন সমাজ। এ ভবিষ্যৎকে নষ্ট করার অপকৌশল হচ্ছে অপসংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে বাস্তবে তা প্রোয়োগ করা।আমাদের সমাজের তরুন-আলেমদের উপর অপসংস্কৃতির কু-প্রভাব অতি গভীর ও ব্যাপক। তারা আজ ইসলামিক সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি অনুশীলনে মেতে উঠেছে।ইসলামিক সংগঠনের শিল্পীদের কাহিনী – বিবাহ বার্ষিকী পালন করা, অবৈধ প্রেমকাহিনী, পড়া হচ্ছে না নামাজ, গজল সন্ধ্যা স্টেজে নারীশিল্পী দিয়ে গান গাওয়া, বিয়ের অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গান করা, সমকামিতায় লিপ্ত, তাদের মোবাইলে রয়েছে অশ্লীল ভিডিও, হিন্দী গান, আরো অনেক কিছু এরই নাম কি ইসলামী সুস্থ সংস্কৃতি।

ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি , ফেসবুকে স্ট্যাটাস, সুন্দর ডিজাইনের পাঞ্জাবি, মাথায় পাগড়ী, স্টেজে উঠে গান, ইউটিউবে ভিডিও আপ, স্টেজে ওঠার আগে এক সংগঠনের শিল্পী অন্য সংগঠনের শিল্পী কে হেয় করা, এক সংগঠনের শিল্পী অন্য সংগঠনে যাওয়া,বা থাকে সাদরে গ্রহণ করা, এরেই নাম কি ইসলামিক সুস্থ সংস্কৃতি।

আমাদের সমাজে বতমানে যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার মূলে রয়েছে অবাধ দূর্ণীতি। দূর্ণীতি যে সমাজে আসন গেড়ে বসে, সে সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি টিকে থাকে না। তাই সুস্থ সংস্কৃতি স্থান দখল করে নিয়েছে অপসংস্কৃতি।

সংস্কৃতি যেমন জীবনকে সুন্দরের পথ দেখায় আর অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দরের পথে নিয়ে যায়, অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। অপসংস্কৃতি জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপ হত্যা করে, বিবেকের দরজায় কড়া লাগায়। অপসংস্কৃতি মানুষকে তাঁর মা, মাটি ও দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এ অপসংস্কৃতির চকম মরীচিকার মত। এর চমক মানুষকে বিবেক বর্জিত পশুতে পরিণত করে।

তরুণর আলেমরাই অপসংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হচ্ছে। তার কারণ এতে চমক আছে উত্তেজনা আছে আর আছে ক্ষণিক আনন্দ। এর একটা মোহত আছে। তরুণরা চঞ্চল। তারা চায় নতুন কিছু করতে, নতুনের সাথে চলতে। এ চলতে গিয়ে, নতুন কিছু করতে গিয়ে তারা যে এগিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের পথে তা তারা বুঝতে পারছে না, তাদের ধ্বংস তারা দেখতে পাচ্ছে না।

সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হওয়া যায়। সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনার পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ করে দেওয়া দরকার। বিশেষ করে, তাদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

সংবাদটি 159 বার পঠিত
advertise