|

আইফেল টাওয়ার দেখে বুঝা যায় না মনের কষ্ট! যুবক ইউরোপ এসো তবে সাগরে ভেসোনা!

বদরুল বিন আফরুজ।।

আপনার বন্ধু ফ্রান্স এসে আইফেল টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি দেয় অথবা সাগর পাড়ে ধবধবে সাদা ললনার পাশে দাঁড়িয়ে দেয়া সেলফি দেখে বুঝবেনই না যে তার মনে কত চাপা কষ্ট বিরাজ করছে। একান্ত প্রিয় যুবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ- দয়া করে যে টাকা দিয়ে ইউরোপ আসতে চাও তা দিয়ে দেশে কিছু করার চেষ্টা করে দেখো।অথবা বৈধ উপায়ে ইউরোপ আসার চেষ্টা চালাও।

সাগর পথে ইউরোপ এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তোমার নয়।তুমি যুবক, তুমি কিশোর, তুমি ছাত্র।দেশে থেকো সাগরে ভেসো না।আসতে চাও এসো, তবে বৈধ উপায়ে অথবা ভালো ওয়ার্ক পার্মিট নিয়ে এসো।সম্মান এবং উজ্জল ভবিষ্যত খুঁজে পাবে ।সাগরের তলে ডুবে মরে অথবা সাগর যুদ্ধে জয়ী হওয়ার কোন দরকার নেই তুমি যুবক ।

সাগর থেকে জাতিসংঘের জাহাজ এসে তাদের উদ্ধার করে অসহায় মানব সন্তান হিসেবে। তারা রিফিইজি হিসেবে আশ্রয় পায় জাতিসংঘ চালিত আশ্রয়কেন্দ্রে। জাতিসংঘের দানকৃত সামান্য টাকা সবাই পায়।কিন্তু সবাই হতাশ। ইউরোপ তো আসা হলো কিন্তু সে ইউরোপের ভবিষ্যত কি তা কেউই জানে না।এখানে এসে দেখে অনেকে ৫/৭ বছর ধরে আছে ‘বৈধতা’ই পায়নি।দেশে যাওয়া তো দুরে থাক, ফুটপাতে মোবাইল চার্জার বিক্রি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রেমিক ফুল বিক্রি, রাস্তায় মদ বিক্রি,বৃষ্টি আসলে ছাতা বিক্রি থেকে নিয়ে নানা হীন কাজই করতে হচ্ছে বাংলাদেশীদের। তখন সবাই বলেন ‘হায় হায়.ভাই, আগে যদি জানতাম এত কষ্ট হবে তাহলে দেশে সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে খুশি থাকতাম।

খোঁজ নিয়ে দেখুন, অবৈধ পথে যারাই ইউরোপ আসে তাদের প্রায় সবার অভিজ্ঞতাই এমন তিক্ত হয়।ইউরোপে আসতে আগ্রহী অনেকেই মনে মনে বকা দিতে পারেন এই ভেবে যে, বেটা নিজে গেছে বলে আর কেউ যাক তা হয়তো চায় না।বিশ্বাস করুন, স্বদেশের একজন ভাই হিসেবেই কথাগুলো বলছি।প্রাণের বাংলাদেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাজারগুণ ভালো অবস্থায় আছে।বৈধভাবে ইউরোপ আসেন, তাতে কেউ বাধা দিচ্ছে না।কিন্তু #হুমায়ুন সহ অন্যান্য দালালের খপ্পরে পড়ে ইউরোপ আসা যে কি পরিমাণ কষ্ট আর অপমানের, তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

সবাই দোয়া করতো ”
‘আল্লাহ, তুমি যদি ইউনূস নবীকে মাছের পেট থেকে বাঁচাতে পারো আমাকে এই দালাল জালেমদের থেকে উদ্ধার করো।’ ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন।কত কষ্ট হলে পরে একজন মানুষ এমন দোয়া করতে পারে।

টুরিস্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশ নিয়ে গিয়ে এক মাসের বেশি থাকার সমস্যা হলেও দালাল সবাইকে কোনও ধরণের সমস্যা হবে না বলে। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও ছোট গাড়িতে করে পাহাড় পাড়ি দিয়ে, আবার কখনও ছোট্ট একটা কনটেইনারের ভেতর ঢুকে যেতে হয়। রাতের বেলায় পাহাড়ে হাঁটাতে হয়। সে কী পাহাড়, হাঁটতে হাঁটতে পায়ের চামড়া উঠে যায়, হাত-পা কেটে রক্ত বের হয়ে সে কী অবস্থা! পাহারকি এক একটা ১০০ তালা সমান, এখনও হাতে পায়ে কাটার দাগ রয়েছে।

একটা কার গাড়িতে করে ১৫ জন করে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে গেলো, সেখানে তিন দিন ছিলাম। এই কয়দিনে দিনে-রাতে একবেলা খাওয়া পেতাম, সেটাও ছিল শুকনা একটা অথবা দুইটা রুটি। ভয়ে একেকজন কুঁকড়ে যেতাম, কিন্তু কারও কিছু করার ছিল না।অনেক আবার পাহাড় থেকে পরে বা জঙ্গলে মারা যাচ্ছেন,তাদের লাশও জায়গায় পেলে আসা হয়।এভাবেই খাওয়া না খাওয়া চার থেকে পাচ মাস পার করথে হয়েছে জংগলে,রাস্তায়,বাসায়।

অবৈধ পথে ইউরোপ না আসার জন্য দেশের সকল ভাইদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, আপনি যুবক মৃত্যু হাতে নিয়ে যুদ্ধে নামার সময় আপনার নয় আসার আগে একবার হলেও চিন্তা ভাবনা করে বৈধ পথে আসেন।

সংবাদটি 1,315 বার পঠিত
advertise